গুরুদ্বারের ভেতরে ঘুমন্ত সেবাদারকে বন্দি করার চেষ্টা! বাধা দিতেই চলল লাগাতার গুলি, পঞ্জাবে চাঞ্চল্য

পঞ্জাবের সংরুর জেলার দিধবা থানা এলাকার অন্তর্গত বদরুখা গ্রামে এক ঐতিহাসিক গুরুদ্বার সাহিবের ভেতর ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর ও রক্তক্ষয়ী ঘটনা। গভীর রাতে অতর্কিত হানা দিয়ে অজ্ঞাতপরিচয় চার দুষ্কৃতী এক সেবাদারকে জিম্মি করার চেষ্টা করে। আর সেই প্রতিবাদ করায় অপর এক সেবাদারকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। এই ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন অজাইব সিং নামের এক সেবাদার গুরুদ্বার চত্বরের আবাসিক এলাকায় ঘুমিয়েছিলেন। সেই সময় চারজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে একজন প্রধান ফটক দিয়ে ভেতরে ঢুকলেও বাকি তিনজন প্রাচীর টপকে চত্বরে প্রবেশ করে। এরপর দুষ্কৃতীরা ঘুমন্ত অজাইব সিংকে ধরে জিম্মি করার চেষ্টা চালায়।
প্রাণ বাঁচাতে অজাইব চিৎকার শুরু করলে, সেই আওয়াজ শুনে পাশের ঘরে থাকা অন্য এক সেবাদার যশোবন্ত সিং বাইরে ছুটে আসেন। হাতেনাতে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে অপরাধীরা যশোবন্ত সিংকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। হামলা চালানোর পরই অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়।
গোটা ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই গ্রামবাসীর মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়ায় এবং পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় রক্তে রক্তাক্ত আহত যশোবন্ত সিংকে প্রথমে নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাঁকে পাতিয়ালার সরকারি রাজেন্দ্র হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।
সামনে এল সিসিটিভি ফুটেজ, তল্লাশি শুরু পুলিশের
এই লোমহর্ষক ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে এসেছে। ক্যামেরার ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, দুষ্কৃতীরা কীভাবে দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করছে এবং ঘুমন্ত পরিচারিকাকে জিম্মি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। বাধা পেলেই তারা কীভাবে ঠান্ডা মাথায় গুলি চালিয়ে চম্পট দেয়, তার পুরো চিত্রটিই সিসিটিভিতে ধরা পড়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ বাহিনী। অজ্ঞাতপরিচয় হামলাকারীদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা এবং অস্ত্র আইনে একটি সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। ঠিক কী উদ্দেশ্যে দুষ্কৃতীরা গভীর রাতে ঐতিহাসিক এই গুরুদ্বারে প্রবেশ করেছিল এবং তাদের আসল উদ্দেশ্য কী ছিল, তা খতিয়ে দেখতে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।