ফ্যাশনের জন্য তৈরিই হয়নি জিন্স! খনির শ্রমিকদের পোশাক আজ কীভাবে সারা বিশ্বের স্টাইল স্টেটমেন্ট? জানুন অজানা ইতিহাস

আপনার সংগ্রহে যতই নান্দনিক বা আধুনিক পোশাক থাকুক না কেন, আলমারিতে অন্তত দুই-তিন জোড়া জিন্স নেই—এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। বয়স, লিঙ্গ বা সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে জিন্স এমন একটি সর্বজনীন পোশাক, যা সব বয়সেই মানানসই। একইসঙ্গে আরামদায়ক, স্টাইলিশ এবং দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কারণে এর কদর সব সময়ই তুঙ্গে। কিন্তু জানেন কি, ফ্যাশনের অনুষঙ্গ হিসেবে আপনি আজ যে জিন্সটি পরে গর্ববোধ করছেন, তা আদতে ফ্যাশনের কথা মাথায় রেখে তৈরিই করা হয়নি!

ঊনবিংশ শতাব্দীতে ফ্রান্সের ‘নিমস’ (Nîmes) শহরে তৈরি হওয়া এই পোশাকটি মূলত ডিজাইন করা হয়েছিল খনির শ্রমিক, নাবিক ও কঠোর পরিশ্রমী কারিগরদের কথা মাথায় রেখে। সাধারণ কাপড়ের তুলনায় এই কাপড় অনেক বেশি টেকসই হওয়ায় শ্রমিকরা এটি ব্যবহার করতেন। ফরাসি ভাষায় এই কাপড়ের নাম ছিল ‘সার্জ দ্য নিমস’, যা পরবর্তীতে সংক্ষেপে ‘ডেনিম’ নামে পরিচিতি লাভ করে। আর এর বিখ্যাত নীল রঙটি বেছে নেওয়ার মূল কারণ ছিল যাতে কাজের সময় পোশাক দ্রুত নোংরা বা দাগযুক্ত না দেখায়। পরবর্তীতে ব্যবসায়ী লেভি স্ট্রস এবং দর্জি জ্যাকব ডেভিসের হাত ধরে ১৮৭৩ সালে এই পোশাক পেটেন্ট পায় এবং বিশ্ববাজারে পা রাখে।

ছোট পকেট ও ট্রেন্ডের বিবর্তন: জিন্সে থাকা ছোট পকেটটি নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে যে, মোবাইল বা চাবি তো দূরে থাক, এতে ঠিক কী রাখা যায়! আসল সত্য হলো, যখন বিত্তবানরা জিন্স পরতে শুরু করেন, তখন ঘোড়সওয়ার ও পেশাজীবীদের পকেট-ঘড়ি (pocket watch) নিরাপদে রাখার জন্যই এই ছোট পকেটটি ডিজাইন করা হয়েছিল। এরপর ১৯৫০ সালে হলিউড অভিনেতা জেমস ডিনের হাত ধরে রূপোলি পর্দায় এই পোশাক এন্ট্রি নেওয়ার পরেই কিশোর-কিশোরী ও তরুণ প্রজন্মের ফ্যাশনের মূল ধারা হিসেবে জায়গা করে নেয়।

ভারতে জিন্সের পথচলা: বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ভারতেও ডেনিমের জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। ১৯৮৬ সালে ‘অরবিন্দ মিলস’-এর হাত ধরে ভারতে প্রথম জিন্সের বাণিজ্যিক প্রচলন শুরু হয়। এর আগে মূলত বিদেশ থেকে আমদানি করা হতো অথবা দর্জির কাছে বানিয়ে নেওয়া হতো। বর্তমান সময়ে ভারত বছরে শত কোটিরও বেশি জোড়া ডেনিম উৎপাদন করে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম উৎপাদনকারী ও ভোক্তা রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। স্কিনি, বুটকাট, ব্যাগি কিংবা রিপড—সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জিন্সের ডিজাইনে হাজারও পরিবর্তন এলেও এর আবেদন আজও চিরসবুজ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *