প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে ইডির হানা! ইউনেস্কো লোগো জালিয়াতি কাণ্ডে কসবায় ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ

ইউনেস্কোর লোগো ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে নাম জড়ানোর পরই এবার প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। মন্ত্রী থাকাকালীন ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ইউনেস্কোর নাম ভাঁড়িয়ে জালিয়াতি কাণ্ডের অভিযোগ সংক্রান্ত তদন্তে মঙ্গলবার সকালেই কসবার হাইল্যান্ড পার্কের বাড়িতে পৌঁছে যান কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। পাশাপাশি, হিন্দুস্থান পার্কে প্রাক্তন মন্ত্রীর মেয়ের বাড়িতেও হানা দেন গোয়েন্দারা। সূত্রের খবর, সেখানেই উপস্থিত ছিলেন ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁকে ঘিরে শুরু হয়েছে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ।

তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, এই জালিয়াতি কাণ্ডে তাঁর ঠিক কী ভূমিকা ছিল, কেন তিনি নিজের প্রভাব খাটিয়েছিলেন, পাস পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ঠিক কত অঙ্কের টাকা তিনি পেয়েছেন এবং কীভাবে সেই লেনদেন হয়েছিল—এই সমস্ত বিষয়ে আজই প্রাক্তন মন্ত্রীর বয়ান লিপিবদ্ধ করা হতে পারে। ঠিক কী কারণে এই প্রতারণা চক্র চালানো হয়েছিল, কার নির্দেশে সমস্ত কিছু পরিচালিত হতো এবং কেনই বা ইউনেস্কোর নাম ভাঙানো হয়েছিল, সেই উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

এদিকে শুধু কলকাতাতেই নয়, একই সঙ্গে হুগলির সিঙ্গুরেও প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও ইডির তদন্তকারী দল। সূত্রের খবর, সিঙ্গুরের ছুটিপুরে ‘মোহর’ নামক একটি বাগানবাড়িতে হানা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় আধিকারিকরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভদ্রেশ্বর বর্ডার এলাকার সিঙ্গুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত বাগডাঙ্গা চীনামোড়ে অবস্থিত এই বাগানবাড়িটি আজ থেকে প্রায় আট-দশ বছর আগে ফাঁকা জমি কিনে তৈরি করেছিলেন তৎকালীন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। মাঝেমধ্যেই সেখানে তাঁর গাড়ির কনভয় ও বহিরাগতদের যাতায়াত করতে দেখা যেত বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।

উল্লেখ্য, এদিন কলকাতা ও জেলা মিলিয়ে মোট ১৫টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি। এর মধ্যে হিন্দুস্থান পার্কে তিনটি জায়গা, কসবা ও পঞ্চসায়র এলাকায় তিনটি এবং হুগলির ফার্মহাউসেও পৌঁছে গেছে কেন্দ্রীয় দল। সিজিও কমপ্লেক্স থেকেও আরও কয়েকটি টিম তল্লাশির জন্য রওনা দিয়েছে। সব মিলিয়ে এই হাই-প্রোফাইল জালিয়াতি মামলায় ইডির কড়া পদক্ষেপে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *