‘সবাই বলত আমি মিথ্যেবাদী!’ বিগ বসের ঘরে দাঁড়িয়ে জীবনের সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক অধ্যায় ফাঁস করলেন নিরঞ্জন

সোশাল মিডিয়ায় লাফটারসেন বা নিরঞ্জন খুব পরিচিত একটি নাম। নিজের মজার ভিডিয়ো দিয়ে তিনি সবসময় মানুষকে হাসিয়ে এসেছেন। কিন্তু তাঁর এই হাসিখুশি মুখের আড়ালে যে এতটা গভীর কষ্ট লুকিয়ে আছে, তা হয়তো দর্শকরা আগে কখনও ভাবতেই পারেননি। সম্প্রতি ‘বিগ বস বাংলা’-র ঘরে এমন এক ভয়ংকর সত্যি সামনে এল, যা শুনে চোখের জল ধরে রাখতে পারছেন না অনেকেই। অভিনেতা জীতু কমলের সঙ্গে চরম ঝগড়ার পরেই নিজের ছোটবেলার এক মর্মান্তিক অভিজ্ঞতার কথা সকলের সামনে এনেছেন তিনি।

সোনার বিস্কুট টাস্ক থেকে তুলকালাম
গত সপ্তাহে বিগ বসের ঘরে ‘সোনার বিস্কুট’ জমানোর একটি টাস্ক চলছিল। এই খেলায় প্রতিযোগীদের মধ্যে রীতিমতো তুলকালাম বেঁধে যায়। তবে সব কিছু ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে জীতু কমল এবং নিরঞ্জনের মধ্যকার তুমুল ঝগড়া। খেলার মাঝেই নিরঞ্জন বড়সড় অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি ছিল, জীতু নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর ব্যক্তিগত অঙ্গে হাত দিয়েছেন।

জীতু অবশ্য এই অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে নিরঞ্জন মিথ্যে কথা বলছেন এবং এমন কোনও ঘটনাই ঘটেনি। জীতুর মুখে এই ‘মিথ্যেবাদী’ শব্দটা শোনার পরেই বিগ বসের বাগানে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন নিরঞ্জন। এমনকি রাগ সামলাতে না পেরে হাতের সামনে থাকা জিনিসপত্র ভাঙচুরও করেন তিনি। উইকেন্ডের এপিসোডে শোয়ের হোস্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সামনেও এই বিষয় নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়।

কেন এত রেগে গিয়েছিলেন নিরঞ্জন?
অনেকেই ভেবেছিলেন নিরঞ্জন হয়তো খেলায় হেরে বা উত্তেজনার বশে একটু বেশিই রাগ দেখাচ্ছেন। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যায় অনুষ্কা এবং ঝিলমের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার সময় আসল সত্যিটা সামনে আনেন তিনি। নিরঞ্জন পরিষ্কার জানান, খেলার সময় ভুল করে গায়ে হাত লাগতেই পারে। এই বাস্তব বিষয়টি তিনি ভালোভাবেই বোঝেন। কিন্তু জীতু যখন তাঁকে সরাসরি ‘মিথ্যেবাদী’ বলে আক্রমণ করেন, তখন তিনি আর নিজেকে সংযত রাখতে পারেননি।

নিরঞ্জন জানান, ছোটবেলায় তাঁকে বারবার যৌন হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে। নিজের সেই যন্ত্রণার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ছোটবেলায় একাধিক পুরুষ তাঁকে যৌন হেনস্থা করেছে। তাঁর কথা বলা বা চলায় ছোট থেকেই একটু মেয়েলি ব্যাপার ছিল, যা আজও হয়তো কিছুটা রয়ে গিয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে কষ্টের ব্যাপার হল, তিনি যখন ওই মানুষগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতেন, তখন সমাজ উল্টে তাঁকেই মিথ্যেবাদী বলত। কারণ তিনি মেয়েদের মতো আচরণ করতেন।

নিরঞ্জন আরও জানান, জীতুর মুখ থেকে ওই একই ‘মিথ্যেবাদী’ শব্দটা শোনার পর তাঁর অবদমিত ক্ষোভ আর ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। ছোটবেলার সেই পুরনো এবং ভয়ংকর কষ্ট এক মুহূর্তে তাঁর মানসপটে ফিরে এসেছিল। নিরঞ্জনের এই দুঃসহ কথা শোনার পর অনুষ্কা ও ঝিলম একদম চুপ হয়ে যান। এই ঘটনার পর সোশাল মিডিয়াতেও তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে সমবেদনা জানিয়েছেন বহু অনুরাগী।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *