বিহারে বড় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন! পদত্যাগ করলেন বিধান পরিষদের চেয়ারম্যান অবধেশ নারায়ণ সিং

বিহারের রাজনৈতিক মহলে বড়সড় ক্ষমতার রদবদল ঘটে গেল। রাজ্য বিধান পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করলেন বিজেপির প্রবীণ এমএলসি অবধেশ নারায়ণ সিং। তাঁর স্থלঅভিষিক্ত হয়েছেন জেডিইউ কোটার এমএলসি রাম বচ্চন রায়, যিনি এবার থেকে বিহার বিধান পরিষদের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন। শাসক জোটের অন্দরের ক্ষমতা ভাগাভাগির (Power Sharing) অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

কেন এই পদত্যাগ?

বিধান পরিষদ সচিবালয়ের সচিব শিব গোপাল মিশ্র জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের জুনে এই পদে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন অবধেশ নারায়ণ সিং। সীতামঢ়ী থেকে লোকসভা সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর জেডিইউর দেবেশ চন্দ্র ঠাকুরের পদত্যাগের পর তিনি এই চেয়ারে বসেছিলেন। এনডিএ সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, বিজেপি ও জেডিইউ-এর মধ্যে পূর্বে হওয়া একটি বিশেষ ‘বোঝাপড়া’ অনুযায়ী দুই শরিক দল একে অপরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিধানসভার বিভিন্ন শীর্ষ পদে নেতৃত্ব ভাগ করে নিচ্ছে। সেই চুক্তির অংশ হিসেবেই অবধেশ নারায়ণ সিংকে তাঁর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছে।

কী জানালেন হেভিওয়েট নেতারা?

পদত্যাগ করার পর প্রবীণ নেতা অবধেশ নারায়ণ সিং বলেন, “দল অর্থাৎ বিজেপি আমাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছিল, যা আমি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেছি। রাম বচ্চন বাবুকে এই নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, এতে আমরা অত্যন্ত খুশি।”

অন্যদিকে, বিহার বিধান পরিষদের নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়ার পর রাম বচ্চন রায় অত্যন্ত বিনীতভাবে বলেন, “আমাকে দল বা উচ্চমহল থেকে যে দায়িত্বই দেওয়া হয়, আমি তা সততার সঙ্গে পালন করার চেষ্টা করি। আমি নিজে থেকে কখনো কোনো পদের দাবি জানাই না। তবে আমাকে যে নতুন দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।”

উল্লেখ্য, গয়া গ্র্যাজুয়েটস আসন থেকে একাধিকবার নির্বাচিত এমএলসি অবধেশ নারায়ণ সিং এর আগেও ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বিধান পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সামলেছেন। পরবর্তীতে ২০২০ সালে তিনি ফের এই পদে ফিরে এলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের জেরে বিভিন্ন সময়ে সমীকরণ বদলাতে দেখা গিয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই রদবদলকে ঘিরে বিহারের রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *