লক্ষণ দেখা দিলেই মৃত্যু নিশ্চিত! কুকুরের কামড় খাওয়ার পর প্রথম কোন কাজটি করা জরুরি?

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এমন একটি রোগ রয়েছে, যার লক্ষণ একবার প্রকাশ পেলে রোগীর বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। আর সেই মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগটি হলো জলাতঙ্ক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসা বিজ্ঞানে এটিই একমাত্র রোগ যার লক্ষণ দেখা দিলে কোনো প্রতিকার বা রক্ষা পাওয়ার উপায় থাকে না।
প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে এই ভয়ংকর রোগে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। যার মধ্যে অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, এর শিকারদের ৪০ শতাংশেরও বেশি হলো ১৫ বছরের কম বয়সি শিশু। তবে এই ভীতিপ্রদ তথ্যের পাশাপাশি একটি আশার আলোও রয়েছে—জলাতঙ্ক পুরোপুরি প্রতিরোধযোগ্য। সঠিক সময়ে যথাযথ প্রাথমিক চিকিৎসা এবং সময়মতো জলাতঙ্ক-রোধী টিকা বা প্রি-এক্সপোজার প্রফিল্যাক্সিস (PEP) গ্রহণ করলে এই মারাত্মক রোগ থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতসহ গোটা বিশ্বে প্রায় ৯৯ শতাংশ জলাতঙ্কের সংক্রমণ ছড়ায় মূলত সংক্রামিত বা রেবিসে আক্রান্ত কুকুরের কামড় কিংবা আঁচড়ের মাধ্যমে। তাই সামান্য অবহেলাও ডেকে আনতে পারে প্রাণঘাতী বিপদ। কুকুর বা কোনো পশুর কামড় বসা মাত্রই ক্ষতস্থান সাবান ও জল দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং নির্ধারিত নিয়ম মেনে সময়মতো ভ্যাকসিনের কোর্স সম্পন্ন করাই এই মারণ রোগ প্রতিরোধের একমাত্র অব্যর্থ উপায়।