মাত্র ৩ ঘণ্টায় খতম ৮২ জঙ্গি! মাত্র ১৮ জন জানতেন গোপন অভিযানের কথা, সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের ১০ বছরে এল বিস্ফোরক তথ্য

২০১৬ সালের ঐতিহাসিক সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের (Surgical Strike) সফল অভিযানের ঠিক এক দশক পূর্ণ হওয়ার লগ্নে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্দরের বহু অজানা ও রোমহর্ষক তথ্য প্রকাশ্যে এল। নিয়ন্ত্রণরেখা (LoC) পেরিয়ে পাকিস্তানের মাটিতে চালানো ওই গোপন অভিযানের অন্যতম প্রধান সেনাপতি তথা অবসরপ্রাপ্ত লেফট্যানেন্ট জেনারেল রাজেন্দ্র রামরাও নিম্বোরকর এক সাক্ষাৎকারে জানান, দেশের সামরিক সক্ষমতা তো ছিলই, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং তৎকালীন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মনোহর পারিক্করের রাজনৈতিক দৃঢ় সংকল্প না থাকলে এই অভাবনীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবে রূপ নেওয়া অসম্ভব ছিল।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, নিয়ন্ত্রণরেখা পার হয়ে পাকিস্তানি জঙ্গি আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়ার এই চূড়ান্ত ও গোপন পরিকল্পনার কথা সরকারের অন্দরে মাত্র ১৮ জন শীর্ষ ব্যক্তির জানা ছিল! হোয়াইট নাইট কর্পস (১৬ কর্পস)-এর তৎকালীন জেনারল অফিসার কমান্ডিং (GOC) পদে থেকে পুরো কৌশলের মূলে ছিলেন নিম্বোরকর।

রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও গ্রিন সিগন্যাল

সেনাপতির স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, এর আগে বহুবার সেনার ওপর হামলার বদলা নেওয়ার কথা বলা হলেও মাঠে নেমে সরাসরি জবাব দেওয়ার জোরালো রাজনৈতিক সদিচ্ছা অতীতে দেখা যায়নি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পারিক্করের মধ্যে সেই অসম সাহসিকতা ছিল। অভিযানের আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পরিণতির সমস্ত দায় তাঁরা নিজেদের কাঁধে তুলে নিতে প্রস্তুত ছিলেন।

উরির সেনা ঘাঁটিতে পাকিস্তানি জঙ্গিদের নৃশংস হামলায় ১৯ জন ভারতীয় জওয়ান শহিদ হওয়ার পর সেনাপ্রধান তড়িঘড়ি স্ট্রাইকের নকশা চেয়ে পাঠান। সেনার অন্দরে প্রথমে অনুমোদন নিয়ে সংশয় থাকলেও, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পারিক্কর নিজে তৎকালীন নর্দার্ন কমান্ডের প্রধান লেফট্যানেন্ট জেনারেল দীপেন্দ্র সিং হুডা, ১৫ কর্পসের প্রধান সাতীশ কুমার দুয়া এবং নিম্বোরকরকে ডেকে সরাসরি গ্রিন সিগন্যাল দিয়ে দেন।

৩ ঘণ্টায় নিকেশ ৮২ জঙ্গি

হোয়াইট নাইট কর্পসের প্রাক্তন সেনাপতির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে উধমপুর ভিত্তিক ৯ প্যারা (এসএফ) এবং ৪ প্যারা (এসএফ)-এর বিশ্বস্ত স্পেশাল ফোর্সের জওয়ানরা অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে সীমান্ত পেরিয়ে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ভেতরে প্রবেশ করেন।

উরি, পুঞ্চ এবং ভিম্বর সেক্টরে সূক্ষ্ম ও নিখুঁত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করে মাত্র ৩ ঘণ্টার মধ্যে ৮২ জন ভয়ংকর জঙ্গিকে খতম করে দেয় ভারতীয় সেনা দল। সবথেকে বড় কথা, এই পুরো অপারেশনে কোনো সাধারণ মানুষের প্রাণহানির (Collateral Damage) ঘটনা ঘটেনি এবং পরদিন ভোর ৫টার মধ্যেই সমস্ত জওয়ান অক্ষত অবস্থায় দেশের সীমানায় নিরাপদে ফিরে আসেন।

এই সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পথ ধরেই পরবর্তীতে বালাকোট এয়ারস্ট্রাইক এবং সাম্প্রতিক ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মতো বড় পদক্ষেপে ভারত পাকিস্তানকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, সীমান্ত পারের সন্ত্রাস বরদাস্ত করা হবে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও সম্প্রতি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, এই ঐতিহাসিক অভিযান ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী নীতিতে এক নতুন দিগন্ত ও দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *