মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে মহা-বিস্ফোরণ! এনসিপি কি সত্যিই হাত মেলাচ্ছে অন্য দলের সঙ্গে? কী বললেন শরদ পাওয়ার?

মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে গত কয়েক দিন ধরে চলা জল্পনার মেঘ অবশেষে কেটে গেল। এনসিপি (এসসিপি) প্রধান শরদ পাওয়ার সমস্ত গুঞ্জনকে উড়িয়ে দিয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে তাঁর দল কোথাও যাচ্ছে না। দলের রাজ্য ইউনিটের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, যাঁরা হাত মেলাতে ইচ্ছুক, তাঁরা যেন বরং তাঁর দলে এসে যোগ দেন। রাজনৈতিক মহলে এই মন্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
মুম্বইয়ে অনুষ্ঠিত এই রাজ্য স্তরের বৈঠকটি প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলে। সাংগঠনিক নানা দিক নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি বৈঠকে কৃষকদের সমস্যা এবং খরা পরিস্থিতির মতো গুরুতর বিষয়গুলিও উঠে আসে। শরদ পাওয়ার জানান, খরা কবলিত মানুষদের ত্রাণ দিতে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি তাঁর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থাকাকালীন একটি পুরনো স্মৃতির কথা উল্লেখ করেন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের আমলে কীভাবে খরা মোকাবিলায় কৃষকদের জন্য বিশেষ আর্থিক সাহায্য আদায় করা হয়েছিল, সেই উদাহরণও তিনি বৈঠকে তুলে ধরেন।
শুধু রাজনীতি বা কৃষিকাজ নয়, এদিনের বৈঠকে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দেন অভিজ্ঞ এই নেতা। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, বারামতিতে এআই শিক্ষার একটি বিশেষ প্রতিষ্ঠানের কাজ তিনি নিজে ঘুরে দেখেছেন। আগামী দিনে রাজনীতির ময়দানে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যে এই প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার হতে চলেছে, সে বিষয়েও তিনি দলের কর্মীদের সতর্ক ও প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই গুঞ্জন চলছিল যে, শরদ পাওয়ারের দল অন্য কোনো রাজনৈতিক সমীকরণের দিকে এগোতে পারে। তবে এই বৈঠক থেকে দলের অবস্থান একেবারে স্পষ্ট করে দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিলেন যে, এনসিপি নিজের পথেই চলবে এবং অন্য কারোর শিবিরে ভিড়বে না। উল্টে বিরোধীদের উদ্দেশে তাঁর চ্যালেঞ্জ, শক্তি থাকলে তাঁরা যেন এই দলেই এসে নাম লেখান। পাওয়ারের এই দ্ব্যর্থহীন বার্তার পর মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে।