‘অশান্তি পাকানোর উদ্দেশ্য!’-কলকাতার স্কুলে কোরান পাঠানো নিয়ে কী বললেন প্রধান শিক্ষক?

শহরের একটি নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রেজিস্টার্ড পার্সেল পৌঁছানোকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। গত সপ্তাহে যাদবপুর বিদ্যাপীঠের ঠিকানায় আসা একটি পার্সেল খোলার পরেই স্কুল কর্তৃপক্ষের চোখ কপালে ওঠে। কারণ, সেই পার্সেলের ভেতরে মিলল ইসলাম ধর্মের নানা গ্রন্থ ও কোরানের একটি কপি। শুধু তাই নয়, এর সঙ্গে থাকা একটি চিঠিতে স্কুলের পাঠ্যক্রমে ইসলাম ধর্মের শিক্ষা এবং ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠ বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার অদ্ভুত দাবি জানানো হয়েছে।

সোমবার যাদবপুর বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক পার্থপ্রতিম বৈদ্য সংবাদ সংস্থাকে জানান, গত ২৪ সেপ্টেম্বর তাঁর দপ্তরে ওই পার্সেলটি এসে পৌঁছায়। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে কালক্ষেপ না করে পরের দিন অর্থাৎ ২৫ সেপ্টেম্বরই যাদবপুর থানায় একটি এফআইআর দায়ের করেন প্রধান শিক্ষক।

তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “আমরা শহরের একটি নামী সরকারি স্কুল। কখনওই আমাদের পড়ুয়াদের মধ্যে ধর্মীয় গোঁড়ামির ভাবনা তৈরি করিনি। আমরা ভারতের বৈচিত্রপূর্ণ ভাবনায় বিশ্বাস করি, যেখানে পড়ুয়াদের কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্মের মতবাদ শেখানো যায় না। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমার মনে হচ্ছে, কিছু ব্যক্তি অসৎ উদ্দেশ্যে অশান্তি তৈরি করার জন্যই এই চিঠি ও পার্সেল পাঠিয়ে থাকতে পারে।”

প্রধান শিক্ষক আরও জানান, এই ধরনের প্ররোচনামূলক পদক্ষেপের নেপথ্যে আসল ষড়যন্ত্র কী রয়েছে, তা পুলিশ প্রশাসনের নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা উচিত। পাশাপাশি তিনি উদ্বেগের সুরেই উল্লেখ করেন যে, তাঁদের স্কুলটি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ঠিক পাশেই অবস্থিত। সম্প্রতি সেখানেও ছাত্র সংঘর্ষের মতো ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে হাজার হাজার খুদে পড়ুয়ার নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তাঁরা কোনো রকম ঝামেলা বা বিশৃঙ্খলা দেখতে চান না।

এদিকে নির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ার পরেই তৎপর হয়েছে পুলিশ প্রশাসন। এক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, রহস্যজনক ওই পার্সেলটির উৎস ঠিক কোথায়, তা খুঁজে বের করতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রেরক হিসেবে যে নাম উল্লেখ করা হয়েছে, আদতে তিনিই ওই পার্সেল পাঠিয়েছেন কি না, নাকি অন্য কেউ এই ঘটনার আড়ালে রয়েছে, তা নিশ্চিত করতে স্কুলের আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *