সন্ত্রাস দমনে ভারত-কাজাখস্তানের মেগা মহড়া! ড্রোন যুদ্ধ থেকে পার্বত্য কৌশল শেখাতে ওসকেমেনে ৬০ জওয়ান

ভারত ও কাজাখস্তানের সেনাবাহিনী যৌথভাবে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের প্রস্তুতি নিতে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, ভারতীয় সামরিক বাহিনীর একটি চৌকস দল ইতিমধ্যেই কাজাখস্তানের ওসকেমেনে এসে পৌঁছেছে। আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া এই যৌথ সামরিক মহড়া ‘কাজিন্দ-২০২৬’ চলবে আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত। দুই দেশের সামরিক সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই এই মেগা মহড়ার সমস্ত প্রস্তুতি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
কারা অংশ নিচ্ছেন এই মহড়ায়?
ভারত-কাজাখস্তান যৌথ সামরিক মহড়া ‘কাজিন্দ’-এর নবম এই সংস্করণে অংশ নিতে ৬০ সদস্যের একটি শক্তিশালী ভারতীয় দল ওসকেমেনে উপস্থিত হয়েছে। এই দলে প্রধানত ভারতীয় সেনাবাহিনীর ঐতিহ্যবাহী ইউনিট গাড়োয়াল রাইফেলসের সৈন্যরা রয়েছেন। পাশাপাশি, অন্যান্য সামরিক শাখা এবং ভারতীয় বিমান বাহিনীর সুদক্ষ জওয়ানরাও এই যৌথ মহড়ায় অংশ নিচ্ছেন। অন্যদিকে, কাজাখস্তান সেনার পক্ষ থেকেও প্রায় সমসংখ্যক সৈন্য এই মহড়ায় মোতায়েন করা হয়েছে।
পার্বত্য ও আধা-শহুরে এলাকায় সন্ত্রাস দমনের প্রশিক্ষণ
‘কাজিন্দ-২০২৬’-এর মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো যৌথ সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনা। মহড়া চলাকালীন উভয় দেশের সেনাবাহিনী জাতিসংঘের (UN) ম্যান্ডেটের অধীনে আধা-শহুরে এবং পার্বত্য অঞ্চলে অভিযান চালানোর আধুনিক কৌশলগুলি ঝালিয়ে নেবে। অংশগ্রহণকারী দলগুলি মূলত যৌথ অভিযান, তল্লাশি ও ধ্বংস অপারেশন, ঘেরাও ও তল্লাশি অভিযান, হেলিপ্যাড ও অবতরণস্থলের নিরাপত্তা রক্ষা এবং বিশেষায়িত হেলিকপ্টার-ভিত্তিক অভিযানে একসঙ্গে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবে।
ড্রোন ও কাউন্টার-ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার
আধুনিক যুদ্ধনীতির কথা মাথায় রেখে এবারের মহড়ায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ড্রোন এবং ড্রোন-প্রতিরোধী (Anti-Drone) ব্যবস্থার ওপর। সন্ত্রাস দমনে আকাশপথের নজরদারি এবং ড্রোন প্রযুক্তির নিখুঁত ব্যবহার শিখবেন জওয়ানরা। এছাড়া, এই মহড়ার অংশ হিসেবে একটি যৌথ কমান্ড পোস্ট এবং গোয়েন্দা ও নজরদারি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে দুই দেশের সেনাবাহিনীই যৌথ অভিযানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তার বাস্তব রূপায়ণ নিখুঁতভাবে অনুশীলন করার সুযোগ পাচ্ছে।
পারস্পরিক কৌশল ও সামরিক সম্পর্ক জোরদার
মহড়ার একদম শেষ পর্যায়ে উভয় সেনাবাহিনী একটি যৌথ যাচাইকরণ মহড়া পরিচালনা করবে। সেখানে একটি কাল্পনিক বা কৃত্রিম সন্ত্রাসী হুমকির পরিস্থিতিতে তাদের অভিন্ন রণকৌশল এবং যৌথ লড়াইয়ের সক্ষমতা পরীক্ষা করা হবে।
ভারত ও কাজাখস্তানের মধ্যকার এই সামরিক মহড়ার মূল উদ্দেশ্য হলো দুই দেশের ফৌজের মধ্যে আন্তঃকার্যক্ষমতা (Interoperability), পারস্পরিক আস্থা এবং সুদৃঢ় সামরিক সহযোগিতা তৈরি করা। ‘কাজিন্দ-২০২৬’ উভয় পক্ষকেই একে অপরের অভিযানগত অভিজ্ঞতা থেকে সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ করে দেবে। একই সঙ্গে এই মেগা মহড়া আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সম্মিলিত নিরাপত্তার প্রতি ভারত ও কাজাখস্তানের যৌথ প্রতিশ্রুতির কথাই আরও একবার জোরালোভাবে তুলে ধরছে।