বাড়ি তৈরির নকশায় বড় বাধা! তবু বাবার লাগানো নিম গাছ কাটলেন না দুই ভাই, ভাইরাল ভিন রাজ্যের মানবিক ছবি

বর্তমান যুগে যেখানে আধুনিক নির্মাণকাজের জন্য নির্বিচারে কাটা হচ্ছে গাছ, ঠিক তখনই অন্ধ্রপ্রদেশের ওয়াইএসআর কাডাপা জেলা থেকে সামনে এল এক অন্যরকম হৃদয়ছোঁয়া ছবি। বাবার প্রতি নিখাদ ভালোবাসা এবং প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন দুই ভাই। বাড়ির নতুন নির্মাণকাজের পথে গাছ বাধা হয়ে দাঁড়ালেও, তা কাটার বদলে ঘরের নকশাই বদলে ফেললেন তাঁরা। এই ঘটনার সুবাদে এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে দুই ভাই বাশা ও রাফি।
বাবার লাগানো নিম গাছই আজ বেঁচে থাকার সান্ত্বনা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াইএসআর কাডাপা জেলার সিংহাদ্রিপুরম মণ্ডলের পাদিপালেম গ্রামের বাসিন্দা শেখ মাহবুব বেশ কয়েক বছর আগে নিজের উঠোনে একটি নিম গাছ লাগিয়েছিলেন। পরম যত্নে গাছটিকে বড় করে তুলেছিলেন তিনি। কিন্তু কিছুদিন আগে শেখ মাহবুবের প্রয়াণ ঘটে। বাবার শারীরিক অনুপস্থিতিতে তাঁর দুই ছেলে বাশা ও রাফি ওই নিম গাছটিকে মৃত বাবারই প্রতিচ্ছবি হিসেবে মেনে নেন। প্রতিদিন নিয়মিত গাছে জল দিয়ে তার পরিচর্যা করতে শুরু করেন দুই ভাই।
সম্প্রতি তাঁরা তাঁদের পুরোনো বাড়ি ভেঙে নতুন পাকা বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেন। সাধারণত বাড়ি নির্মাণের সময় জমির মাপ ঠিক রাখতে বা সুবিধার জন্য অনেকেই গাছ কেটে ফেলেন। কিন্তু বাশা ও রাফির কাছে বাবার হাতে লাগোনো ওই গাছটি কাটার অর্থ ছিল যেন বাবার মৃত্যুকে ফের মেনে নেওয়া।
গাছ বাঁচিয়ে বদলে ফেলা হলো বাড়ির নকশা
বাবার স্মৃতিবিজড়িত গাছটিকে এক ফোঁটাও না কেটে, উল্টে ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে কথা বলে বাড়ির মূল নকশাই পরিবর্তন করে ফেলেন দুই ভাই। গাছটির কোনো রকম ক্ষতি না করে তা যাতে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে, তার জন্য বাড়ির অন্দরেই গাছটির চারপাশে একটি বিশেষ ফাঁকা জায়গা রেখে বাকি নির্মাণকাজ শেষ করেন তাঁরা।
সংবাদমাধ্যমকে আবেগাপ্লুত হয়ে বাশা ও রাফি জানান, “যদিও আমাদের বাবা শারীরিকভাবে আর আমাদের মাঝে নেই, তিনি এই নিম গাছটির রূপে প্রতিদিন আমাদের সঙ্গে আছেন। আমরা এই গাছটি কাটতে পারি না। এটি তাঁর স্মৃতির এক জীবন্ত সাক্ষ্য। গাছটির জন্য ঘরের কিছুটা জায়গা কমলেও আমাদের মনে হয়, বাবার ভালোবাসাতেই আমাদের পুরো বাড়িটা ভরে রয়েছে।”
বাবার প্রতি এই দুই ছেলের অগাধ শ্রদ্ধা এবং আধুনিক যুগে সবুজ রক্ষার এই উদ্যোগ স্থানীয় গণ্ডি পেরিয়ে এখন গোটা দেশের মানুষের নজর কেড়েছে। নেটিজেনদের একাংশের মতে, ইট-কাঠ-পাথরের এই যুগে দাঁড়িয়ে বাশা ও রাফির এই মানবিক সিদ্ধান্ত মানবতা ও ভালোবাসার এক অন্যতম সেরা উদাহরণ।