কোটি টাকার মাদক কাণ্ড থেকে বাঁচিয়েছিলেন কুখ্যাত পাচারকারীকে! এবার কি শ্রীঘরেই শেষ দিনগুলো কাটবে এসপি মুকেশ সোনির?

উদয়পুরের चर्चित ২৭২-প্লট মামলায় ২ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) মুকেশ সোনি এখন তাঁর অতীতের বিতর্কিত কার্যকাল নিয়ে তীব্র তদন্তের মুখে পড়েছেন। ২০২১-২২ সালে জয়পুর ও আজমীরে মাদক মাফিয়াদের বিরুদ্ধে চালানো অভিযানে প্রায় ১১ কোটি টাকার মাদক উদ্ধার করা হয়েছিল। সেই সময় আজমীরে কমান্ডিং অফিসার (সিও) হিসেবে কর্মরত মুকেশ সোনির বিরুদ্ধে মূল মাদক পাচারকারী শ্যামসুন্দর মুন্দ্রাকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে।

চা বিক্রেতাকে বলি দিয়ে মূল অভিযুক্তকে পালানোর সুযোগ!

তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে, ২০২১-২২ সালের ওই মাদকবিরোধী অভিযানে ১১ কোটি টাকার মাদক জব্দ করা হলেও আজমেঢ়ের তৎকালীন সিও মুকেশ সোনির বিরুদ্ধে মূল অভিযুক্ত শ্যামসুন্দর মুন্দ্রাকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করার অভিযোগ ওঠে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, আসল পাচারকারীকে আড়াল করতে সেই সময় একজন প্রহরী ও এক সাধারণ চা বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, মাদক উদ্ধারের পরও প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে সুনির্দিষ্ট প্রতিবেদন তৈরি না করায় পুলিশের ভূমিকা ও কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছিল।

নথি জাল করে মামলা দুর্বল করার কারসাজি

অভিযোগ রয়েছে, আইনি ফাঁকফোকর তৈরি করে প্রধান অভিযুক্তকে বাঁচাতে এফআইআর-এ এনডিপিএস আইনের ধারাগুলো ইচ্ছেমতো দুর্বল করা হয়েছিল। তদন্তে উঠে আসে যে, এনডিপিএস আইনের কঠোর ৮/২২ ধারাটি তুলে দিয়ে তুলনামূলক লঘু ৮/২৯ ধারা আরোপ করা হয়েছিল। যার ফলে সহজেই স্থানীয় আদালত থেকে জামিন পেয়ে যায় মূল অভিযুক্ত মুন্দ্রা।

মামলাটিকে সম্পূর্ণ দুর্বল করে দিতে সরকারি নথিপত্র পর্যন্ত জাল করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ২৪ মে এবং ১ জুনের অভিযানের সময় ড্রাগস ইন্সপেক্টর রবীন্দ্রকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত দেখানো হলেও, দাপ্তরিক নথিপত্র অনুযায়ী সেই নির্দিষ্ট তারিখগুলোতে তিনি একটি বিভাগীয় পরিদর্শনের জন্য সম্পূর্ণ অনুপস্থিত ছিলেন। একই সময়ে একজন কর্মকর্তার দুটি ভিন্ন স্থানে উপস্থিতি নিয়ে চরম প্রশ্ন দেখা দেয়।

হাইকোর্টের কড়া নজরদারি ও দিব্যা মিত্তালের তদন্ত

পুলিশের এই ভূমিকার বিরুদ্ধে জল গড়ায় হাইকোর্ট পর্যন্ত। হাইকোর্টের আদেশের পর স্পেশাল অপারেশনস (এসওজি) আজমের ইউনিটের তৎকালীন এএসপি দিব্যা মিত্তাল পুরো বিষয়টি তদন্ত করেন। তাঁর প্রতিবেদনেও মুকেশ সোনির সন্দেহজনক ভূমিকার কথা উঠে আসে।

মামলাটি হাইকোর্টে উঠলে বিচারপতি ফারজান্দ আলী পুলিশের ভূমিকা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন। আদালত প্রশ্ন তোলে—কীভাবে একজন দরিদ্র ও নিরক্ষর ব্যক্তি কোটি কোটি টাকার মাদক চক্রের মূল মাথা হতে পারে? এরপরই হাইকোর্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের ভূমিকা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্তের নির্দেশ দেয় এবং খোদ ডিজিপি-কে (DGP) মামলাটি সরাসরি পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেন।

বর্তমানে উদয়ের প্লট কেলেঙ্কারিতে ২ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর মুকেশ সোনির এই পুরোনো মাদক মামলাটি নতুন করে সামনে এসেছে। তবে ঘুষ কাণ্ড ও পুরোনো মাদক চক্রে তাঁর চূড়ান্ত ভূমিকা এবং আইনি পরিণতি কী হবে, তা নির্ভর করছে বিচার প্রক্রিয়ার ওপর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *