তৃতীয় বিয়ের জেদ! গর্ভবতী স্ত্রীকে নদীস্রোতে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা বিকৃতমনা স্বামীর, তারপর…

ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচি থেকে সামনে এল এক অমানবিক ও শিহরিত করার মতো ঘটনা। তৃতীয়বার বিয়ে করার জেদ এবং পরকীয়ার নেশা এক স্বামীকে কীভাবে দানবে পরিণত করতে পারে, তারই এক মর্মান্তিক প্রমাণ মিলল অঙ্গদা থানা এলাকায়। গর্ভবতী স্ত্রীকে ঠান্ডা মাথায় খুন করার উদ্দেশ্যে নদীর প্রবল স্রোতে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। তবে অলৌকিক ও সাহসিকতার জোরে শেষ পর্যন্ত প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন ওই গৃহবধূ।
কীভাবে ঘটেছিল এই নৃশংস ঘটনা?
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মূল অভিযুক্ত সুরেশ মাহাতো ওরফে মিঠুঞ্জয় মাহাতো বুন্দু থানা এলাকার মধুকমা গ্রামের বাসিন্দা। বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও সে সাতকি গ্রামের বাসিন্দা লক্ষ্মণীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেছিল। বর্তমানে লক্ষ্মণী দুই থেকে তিন মাসের গর্ভবতী। কিন্তু সম্প্রতি অন্য এক নারীর প্রেমে পড়ে সুরেশ তৃতীয়বারের মতো বিয়ের পরিকল্পনা করে। আর এই সম্পর্কে বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় গর্ভবতী স্ত্রীকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার ছক কষে সে।
প্রাথমিকভাবে স্ত্রীকে খুন করার উদ্দেশ্যে জোনহা জলপ্রপাতে নিয়ে গিয়েছিল সুরেশ। পাহাড়ের চূড়া থেকে ধাক্কা ফেলে দিয়ে ঘটনাটিকে নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে সাজানোর পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু সেখানে পর্যটকদের অতিরিক্ত ভিড় থাকায় সে যাত্রায় সফল হতে পারেনি ওই ব্যক্তি।
এরপর গত শনিবার রাতে স্ত্রীকে মোটরসাইকেলে করে অঙ্গদা থানা এলাকার পাইকা জোড়া সেতুর কাছে নিয়ে যায় সে। সেখানে হাঁটার অজুহাতে রাধু নদীর তীরে নিয়ে গিয়ে পিছন থেকে স্ত্রীর গায়ে প্রবল ধাক্কা দেয়। নদীর তীব্র স্রোতে স্ত্রী ডুবে মারা যাবে—এই ভেবে নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করে চম্পট দেয় পাষণ্ড স্বামী।
অলৌকিক বেঁচে ফেরা ও স্থানীয়দের উদ্ধারকার্য
সৌভাগ্যবশত, অভিযুক্তের স্ত্রী লক্ষ্মণী সাঁতার জানতেন। প্রবল স্রোতের সঙ্গে লড়াই করে তিনি সাঁতরে নদীর মাঝখানে একটি ছোট দ্বীপে গিয়ে উঠতে সক্ষম হন। শনিবার রাতভর প্রবল বৃষ্টির মধ্যে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থায় সেই দ্বীপে আটকে ছিলেন ওই গৃহবধূ।
পরদিন রবিবার সকালে নদীর তীরে স্থানীয় গ্রামবাসীরা দ্বীপে এক মহিলাকে আটকে থাকতে দেখতে পান। এরপর স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘ ও অক্লান্ত প্রচেষ্টায় মুমুর্ষু অবস্থায় লক্ষ্মণীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় অঙ্গদা থানার পুলিশ।
পুলিশের তদন্ত ও পলাতক অভিযুক্ত
ভুক্তভোগী লাখমণির সুনির্দিষ্ট জবানবন্দির ভিত্তিতে তাঁর স্বামী সুরেশ মাহাতো ওরফে মিঠুঞ্জয় মাহাতোর বিরুদ্ধে একটি কঠোর মামলা রুজু করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছে এবং তার মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে। কুখ্যাত এই অপরাধীকে পাকড়াও করতে বুন্দু ও তার আশেপাশের সম্ভাব্য সমস্ত এলাকায় জোরদার তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ প্রশাসন। গর্ভবতী স্ত্রীকে খুনের এমন রোমহর্ষক ও বর্বরোচিত চক্রান্তের কথা প্রকাশ্যে আসতেই গোটা এলাকায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।