ISF-র খাম প্রতীক কেড়ে অন্যকে দেওয়া কেন? নির্বাচন কমিশনকে তুলোধোনা করে কড়া প্রশ্ন আদালতের!

উপনির্বাচনে আইএসএফকে (ISF) পূর্বে ব্যবহৃত ‘খাম’ প্রতীক না দেওয়া নিয়ে ফের একবার নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। বিধানসভা নির্বাচনে যে প্রতীক নিয়ে একটি দল লড়াই করেছে, তা হুট করে অন্য দলকে কীভাবে বরাদ্দ করা হলো, সেই প্রশ্ন তুলে কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় আইনি জট তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শোনার পর আপাতত এই মামলার রায়দান স্থগিত রেখেছে আদালত।

ঠিক কী নিয়ে এই আইনি লড়াই?

এদিনের শুনানিতে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়ায় নির্বাচন কমিশন। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানান, কমিশনের সিদ্ধান্ত সবসময় নিরপেক্ষ হওয়া উচিত। আদালত জানতে চায়, “কোনো সমস্যাই হতো না যদি প্রতীকটি কাউকেই দেওয়া না হতো। ফ্রি সিম্বল ঠিক আছে, কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে যে দল একটি প্রতীকে লড়াই করেছে, সেই প্রতীক আপনারা অন্য দলকে দিলেন কেন?”

বিচারপতি আরও বলেন, ভবিষ্যতে যাতে কোনো আইনি জটিলতা তৈরি না হয়, সেদিকে নজর রেখেই কমিশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে কমিশনকে সমস্ত প্রশ্নের উত্তরের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে বলেও স্মরণ করিয়ে দেয় আদালত।

কমিশন বনাম আইএসএফ: যুক্তি ও পাল্টা যুক্তি

কমিশনের বক্তব্য: নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী জিষ্ণু চৌধুরী আদালতে জানান, কোনো রাজনৈতিক দলকে দুবারের বেশি একই ফ্রি সিম্বল বা মুক্ত প্রতীক দেওয়া যায় না। প্রতীক কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় এবং যেখানে আইনি অধিকার নেই, সেখানে সেই প্রতীক দাবি করা যায় না। তাছাড়া, বিধানসভা নির্বাচনের মতো উপনির্বাচনে এই প্রতীক ততটা গুরুত্বপূর্ণও নয়। গত ১৮ সেপ্টেম্বর এই প্রতীক গণতান্ত্রিক তৃণমূলকে বরাদ্দ করা হয়েছে।

আইএসএফের সওয়াল: আইএসএফের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য জোরালো সওয়াল করে জানান, উপনির্বাচন হলো মূল নির্বাচনেরই একটি অংশ। ফলে একটি রাজনৈতিক দল যখন একটি নির্দিষ্ট প্রতীকে নির্বাচন লড়েছে, তখন আইনত তাদের থেকে সেই প্রতীক কেড়ে নেওয়া যায় না। সংবিধানের ১৪ ধারাকে উদ্ধৃত করে তিনি জানান, কমিশন কোনোভাবেই এমন একপেশে বা অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।

গণতান্ত্রিক তৃণমূলের বক্তব্য: আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য আদালতে জানান, কমিশন চাইলে একাধিক আবেদনকারীর মধ্যে একজনের আবেদন বাতিল করতে পারে, তবে তার উপযুক্ত যুক্তি থাকা প্রয়োজন।

আইনি মারপ্যাঁচে স্থগিত রায়দান

কমিশনের আইনজীবীর দাবি ছিল যে আইএসএফ বর্তমানে ‘আলমারি’ প্রতীকেই প্রচার চালাচ্ছে এবং শুধুমাত্র নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই মামলা করা হয়েছে। তবে উভয় পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল শোনার পর বিচারপতি কৃষ্ণা রাও নির্বাচন কমিশনের একপেশে সিদ্ধান্ত নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। শেষ পর্যন্ত সমস্ত পক্ষের বক্তব্য খতিয়ে দেখে এই মামলার রায়দান স্থগিত রেখেছে আদালত। আগামী দিনে আদালতের এই রায় রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *