‘মাথায় আঘাত করে হাসপাতালে পাঠান, ডান্ডা মেরে ঠান্ডা করুন!’ বিজেপি নেতার মন্তব্যে ঝড়েও অনড় কাসেম

প্রকাশ্য জনসভা থেকে সিপিএমকে নিশানা করে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মন্তব্য করলেন এক বিজেপি নেতা। কাসেম আলি নামের ওই নেতার একটি বিতর্কিত বক্তব্য ঘিরে বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো ঝড় উঠেছে। একদিকে তাঁর এই চরম হুঁশিয়ারির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাম নেতৃত্ব, অন্যদিকে নিজের বক্তব্যে অনড় থেকে উলটো সুরেই ফের আক্রমণ শানিয়েছেন ওই বিজেপি নেতা।
ঠিক কী বলেছেন বিজেপি নেতা কাসেম আলি?
দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে সুর আরও চড়িয়ে কাসেম আলি বলেন, “সিপিএমের সঙ্গে কোনো আপস করবেন না। এরা হচ্ছে গোখরো সাপ, ফণা তুলতে দিলেই ছোবল মারবে। ফণা তোলার আগেই গণতান্ত্রিকভাবে এদের মাথায় আঘাত করে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিন। এদের বিরুদ্ধে হাতে ডান্ডা রাখবেন, ডান্ডা মেরে ঠান্ডা করে দেবেন। বাদ বাকি আমরা এবং ভারতীয় জনতা পার্টি বুঝে নেবে।”
অতীতের ৩৪ বছরের বাম শাসনকালকে টেনে এনে তিনি আরও বলেন, “সিপিএম দেশের শত্রু, কত মায়ের কোল এরা খালি করেছে। এদের সামাজিকভাবে বয়কট করুন, এদের সাথে কেউ মিশবেন না, সম্পূর্ণ একঘরে করে দিন। এরা হো চি মিন আর লেনিনকে মানে কিন্তু নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ কিংবা এপিজে আবদুল কালামের মতো মনীষীদের মানে না। জীবন বাজি রেখে হলেও সিপিএমের অস্তিত্ব আমরা মুছে দেব।”
এই বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে রাজ্য রাজনীতিতে প্রতিবাদের ঝড় উঠলেও, মঞ্চের পাশাপাশি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েও নিজের বক্তব্যে অনড় থাকেন কাসেম আলি। বামপন্থীদের ‘দেশবিরোধী শক্তি’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি ফের নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
সিপিএমের তীব্র প্রতিক্রিয়া ও আইনি হুঁশিয়ারি
বিজেপি নেতার এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছে সিপিআই(এম) নেতৃত্ব। বাদুড়িয়া এরিয়া কমিটির সিপিএম নেতা অনিমেষ মুখোপাধ্যায় এই ঘটনার নিন্দা করে বলেন, “আজাদি শব্দের অর্থ স্বাধীনতা, আর এই কথাতেই বিজেপি ও আরএসএস ভয় পায়। কারণ দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ওদের কোনো ভূমিকাই ছিল না।”
অতীতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, “কয়েক বছর আগে তৃণমূলের তৎকালীন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকও এই উত্তর ২৪ পরগনায় দাঁড়িয়ে ঠিক একই সুরে সিপিএমকে বিষধর সাপ বলার পাশাপাশি তাদের বয়কট করার হুমকি দিতেন। আজ তাঁর কী পরিণতি হয়েছে, তা গোটা বাংলার মানুষ দেখতে পাচ্ছে।” প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে বিরোধীদের শারীরিক আক্রমণের উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে ওই বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে প্রতিটি থানায় অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করা উচিত বলেও দাবি তুলেছেন তিনি।
সবমিলিয়ে, বিজেপি নেতার এই আক্রমণাত্মক বয়ান এবং পালটা বাম শিবিরের আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিকে কেন্দ্র করে বাদুড়িয়া তথা রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন চরমে।