পুজোর মুখে টিকিটের আকাল শেষ! স্পেশাল ট্রেন চালুর বিরাট ঘোষণা রেলের, কোন কোন রুটে মিলবে স্বস্তি?

হাতে আর মোটে কটা দিন। তারপরেই বাংলার ঘরে ঘরে বেজে উঠবে দুর্গাপুজোর ঢাক। উৎসবের এই মরশুমে পাহাড় কিংবা সমুদ্র—প্রিয়জনদের সঙ্গে চটজলদি কোথাও ঘুরে আসার পরিকল্পনা অনেকেরই থাকে। কিন্তু পুজোর দিনে কনফার্ম ট্রেনের টিকিট পাওয়া এখন একপ্রকার সোনার পাথর বাটি পাওয়ার মতোই কঠিন। সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখেই পুজোর মরশুমে একগুচ্ছ স্পেশাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিল ভারতীয় রেল (Indian Railways), যার ফলে টিকিটের দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কোন রুটে চলাচল করবে স্পেশাল ট্রেন?
যাত্রীদের অতিরিক্ত ভিড় সামাল দিতে রেলের পক্ষ থেকে বিশেষ দুর্গাপুজো স্পেশাল ট্রেন চালানোর ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো পুরী এবং সাঁতরাগাছি জংশনের মধ্যে চলাচলকারী বিশেষ ট্রেন। তবে এই ট্রেনগুলি সপ্তাহের প্রতিদিন নয়, বরং বিশেষ কিছু নির্দিষ্ট দিনেই যাত্রীদের পরিষেবা দেবে।

রেল সূত্রে প্রাপ্ত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ৫ অক্টোবর থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতি সোমবার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে পুরী থেকে ট্রেনটি ছাড়বে এবং পরদিন অর্থাৎ মঙ্গলবার ভোর ৩টে ৪৫ মিনিটে সেটি সাঁতরাগাছিতে এসে পৌঁছাবে। অন্যদিকে, সাঁতরাগাছি থেকে পুরী যাওয়ার রিটার্ন ট্রেনটি ছাড়বে আগামী ৬ অক্টোবর থেকে এবং তা চলবে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত। প্রতি মঙ্গলবার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে সাঁতরাগাছি থেকে ছেড়ে ট্রেনটি একই দিন সন্ধ্যা ৭টায় পুরীতে গিয়ে পৌঁছাবে।

কোথায় কোথায় থামবে ট্রেনটি?
যাত্রীদের সুবিধার্থে পুরী ও সাঁতরাগাছি জংশনের মধ্যে চলাচলকারী (০৮৪০৫ এবং ০৮৪০৬ নম্বরের) এই বিশেষ ট্রেনটি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে থামবে। রেলের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী, সাক্ষী গোপাল, খুরদা রোড, ভুবনেশ্বর, কটক, জাজপুর কে রোড, ভদ্রক, বালেশ্বর, রূপসা জংশন, জালেশ্বর এবং খড়্গপুর জংশন স্টেশনে ট্রেনটির দাঁড়ানোর সময় নির্ধারিত রয়েছে।

ট্রেনে কী কী সুযোগ-সুবিধা থাকছে?
যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে এই স্পেশাল ট্রেনটিতে মোট ১৭টি আধুনিক কোচ যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১টি দ্বিতীয় এসি (2nd AC) কোচ, ৩টি তৃতীয় এসি (3rd AC) কোচ, ৮টি স্লিপার ক্লাস এবং ৪টি সাধারণ বা জেনারেল কামরা। পাশাপাশি, বিশেষভাবে সক্ষম যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য একটি আলাদা বিশেষ কোচও রাখা হয়েছে। উৎসবের মরশুমে ঘরোয়া বা দূরপাল্লার যাত্রার এই বাড়তি সুবিধা পাওয়ায় সাধারণ পর্যটকদের মুখে যে চওড়া হাসি ফুটবে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *