পুজোর বাজারেই বড় ধাক্কা! ১ অক্টোবর থেকে এসি, ফ্রিজ ও ওয়াশিং মেশিনের দাম হু হু করে বাড়াচ্ছে কোন কোন কোম্পানি?

পুজোর মরশুমের ঠিক আগে ঘরোয়া বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম কেনার কথা ভাবছেন? তাহলে আপনার পকেটে টান পড়তে পারে। কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার জেরে আগামী ১ অক্টোবর থেকে একাধিক নামী সংস্থার এসি, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন এবং এলইডি টিভির দাম বাড়তে চলেছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে পণ্যের দাম একলাফে ৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৬ সালে এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো গৃহস্থালির বৈদ্যুতিন সামগ্রীর দাম বাড়ানোর পথে হাঁটছে সংস্থাগুলি।

কোন পণ্যের দাম কত বাড়তে পারে?
বিশেষ করে এসি তৈরির মূল উপাদান তামার দাম গত বছরের প্রতি মেট্রিক টন ৮-৯ হাজার ডলার থেকে বেড়ে বর্তমানে প্রায় ১৪,৫০০ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। একটি এসি তৈরিতে প্রায় ৩ থেকে ৪ কেজি তামা লাগে। এছাড়া ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, অপরিশোধিত তেল, পরিবহণ খরচ এবং মুদ্রার ওঠানামার কারণে প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির ওপর খরচের চাপ মারাত্মকভাবে বেড়ে গিয়েছে। ফলস্বরূপ, ১ অক্টোবর থেকে এসির দাম প্রায় ৫ থেকে ৮ শতাংশ এবং ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন ও এলইডি টিভির দাম ৩ থেকে ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

কোন কোন সংস্থা দাম বাড়াচ্ছে?
ইন্ডাস্ট্রি সূত্রে খবর, ব্লু স্টার, গোদরেজ, হায়ার, ডাইকিন এবং এসপিপিএল (SPPL)-এর মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলি ইতিমধ্যেই দাম বাড়িয়ে দিয়েছে বা নতুন দাম কার্যকর করার ঘোষণা করেছে। ডাইকিন গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকেই তাদের এসির দাম ৮ থেকে ১০ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া এলজি, বোশ এবং হিটাচির এসির দামও প্রায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। হায়ার ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট এন এস সতীশ জানিয়েছেন, ১ অক্টোবর থেকে তাদের এসির দাম ৫ শতাংশ এবং টিভি ও ওয়াশিং মেশিনের দাম ২ থেকে ৩ শতাংশ বাড়ানো হচ্ছে। এমনকি আগামী জানুয়ারি মাসের মধ্যে সমস্ত উপকরণের দাম মিলিয়ে সামগ্রিক বৃদ্ধি প্রায় ১৫ শতাংশে গিয়ে পৌঁছাতে পারে।

পুজোর বাজারে কি পুরনো দামেই মিলবে জিনিস?
গ্রাহকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির বিষয় হলো, ১ অক্টোবর থেকেই বাজারের সমস্ত জিনিসের দাম একলপ্তে বাড়ছে না। অগাস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে বিভিন্ন সংস্থার প্রি-বাইং স্কিমের সুবাদে ডিলার ও বিক্রেতারা প্রচুর পণ্য পুরনো দামেই কিনে মজুত করে রেখেছেন। ফলে দুর্গাপুজো ও দীপাবলির উৎসবের মরশুমেও বাজারে কিছুদিন পুরনো দামের এসি, টিভি বা ফ্রিজ পাওয়া যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে উৎসবের আমেজ কাটতেই নতুন দামের প্রভাব বাজারে পুরোপুরি পড়তে শুরু করবে এবং তখন এই সমস্ত প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিন সামগ্রী কিনতে সাধারণ ক্রেতাদের আগের চেয়ে অনেকটাই বেশি অর্থ খরচ করতে হবে।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *