সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের! স্পিকার বনাম শাসকশিবিরের মামলায় সর্বোচ্চ আদালত কী নির্দেশ দিল?

দলত্যাগ বিরোধী আইন এবং স্পিকারের একাধিকার সংক্রান্ত মামলায় বড় ধরনের আইনি ধাক্কা খেল শাসকশিবির। সোমবার সুপ্রিম কোর্টে খারিজ হয়ে গেল প্রবীণ বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের করা মামলা। একই সঙ্গে ১০ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ডিসকোয়ালিফিকেশন পিটিশনের নিষ্পত্তি করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমার বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গের স্পিকারকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।

ঠিক কী জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট?
সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি ছিল। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৮ জুলাই মোট ১০ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে ডিসকোয়ালিফিকেশন পিটিশন দায়ের করা হয়েছিল। আইন অনুযায়ী, এই ধরনের সংবেদনশীল মামলার নিষ্পত্তি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই করা বাধ্যতামূলক। মামলার শুনানিতে বেঞ্চের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, “আমরা আশা করছি, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার এই বিষয়ে সম্পূর্ণ অবগত আছেন এবং তিনি যথাযথ সময়ের মধ্যেই তাঁর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।” আদালতের এই ইঙ্গিতের পর আগামী ৮ অক্টোবর নির্ধারিত ডেডলাইনের মধ্যে স্পিকার কী পদক্ষেপ নেন, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

শুরুর আগেই হোঁচট এবং বানানের ভুল প্রসঙ্গ
বিধানসভার বিরোধী দলনেতা বাছাই প্রক্রিয়া এবং স্পিকার রথীন্দ্র বসুর সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থাতেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট শিবির। প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। তবে শুরুতেই এই মামলা আইনি মারপ্যাঁচে বড়সড় হোঁচট খায়। সুপ্রিম কোর্টের নথি অনুযায়ী, ‘Diary No. 56820/2026, Sohandeb Chattopadhyay vs. Speaker’ শিরোনামের ওই মামলায় বেশ কিছু ত্রুটি ধরা পড়ে। অভিযোগ ওঠে, আবেদনে নামের বানান ভুল থাকার কারণে আইনি জটিলতা তৈরি হয়—যেখানে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল যে ‘কে এই সোহনদেব? ইনিই কি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় নাকি অন্য কেউ?’ এই গোড়াতেই গলদের জেরে মামলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং সোমবার শেষ পর্যন্ত শীর্ষ আদালত শোভনদেবের আবেদন খারিজ করে দেয়।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *