অন্নপূর্ণা যোজনায় দেড় কোটির বেশি উপভোক্তা! পুজোর আগেই কি টাকা পাবেন বাকি বঞ্চিতরা? বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

গত তিন মাস ধরে রাজ্যজুড়ে অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana) নিয়ে চর্চা ও বিতর্ক যেন থামার নামই নিচ্ছে না। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে এই প্রকল্পের আওতায় সুবিধাভোগীর সংখ্যা দেড় কোটির গণ্ডি পার করলেও, এখনও বহু উপভোক্তা এর সুযোগ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠছে। অনেকেরই দাবি, সমস্ত নিয়ম মেনে সঠিকভাবে ফর্ম ফিলাপ করা সত্ত্বেও দিনের পর দিন কেবল অপেক্ষাই করতে হচ্ছে। তবে এই সমস্ত জল্পনা ও অভিযোগের মাঝেই সমস্ত যোগ্য প্রাপকদের জন্য বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

চলতি বছরের জুন মাস থেকেই রাজ্যে অন্নপূর্ণা প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা প্রদান শুরু হয়েছে। কিন্তু বহু আবেদনকারীর অভিযোগ, তাঁরা এখনও পর্যন্ত একটি কিস্তির টাকাও হাতে পাননি। সম্প্রতি বর্ধমানে এক জনসভায় গিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার কড়া জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী। পূর্ববর্তী সরকারের সঙ্গে বর্তমান ব্যবস্থার তুলনা টেনে তিনি বলেন, সামান্য ৫০০ টাকা দিতেই আগের সরকার প্রায় ৯ মাস সময় নষ্ট করত। অথচ বর্তমান সরকার মাত্র ৫ মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ১ কোটি ৫৮ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে দিয়েছে।

বর্ধমানের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই জেলায় ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মোট ১২ লক্ষ ৩৮ হাজার ৭৮১ জন মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে ১১ লক্ষ ৫৬ হাজার ৩৩২ জনের আবেদন অনুমোদিত (Approved) হয়েছে। কিছু আবেদন বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন (Under process) রয়েছে, ১৭ হাজার ৪৫ জনের আবেদন বাতিল হয়েছে এবং ১০ হাজার ৭১৪ জনের ভেরিফিকেশন বা যাচাইয়ের কাজ পেন্ডিং রয়েছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যেই ৯ লক্ষ ৫২ হাজার ৩৩১ জন উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা ক্রেডিট হয়ে গেছে।

যাঁদের ভেরিফিকেশন এখনও বাকি রয়েছে, তাঁদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন যে, পুজোর আগেই সমস্ত যোগ্য প্রাপকদের অ্যাকাউন্টে বকেয়া টাকা ট্রান্সফার করে দেওয়া হবে। যাঁদের আবেদন ইতিমধ্যেই অ্যাপ্রুভ হয়েছে, তাঁরা আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যেই এই প্রকল্পের সম্পূর্ণ সুবিধা পেয়ে যাবেন বলে জানান তিনি। ফলে উৎসবের মরশুমের ঠিক আগে অন্নপূর্ণা যোজনার বঞ্চিত উপভোক্তাদের মুখে যে চওড়া হাসি ফুটতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *