এক বছরের কম বয়সি শিশুকে ভুল করেও মধু দেবেন না! চিকিৎসকদের এই মারাত্মক সতর্কবার্তা না জানলে পস্তাবেন

পরিবারে নতুন অতিথি আসার আনন্দ মানেই নানা পুরোনো রীতিনীতির কড়চা। যার মধ্যে অন্যতম হলো নবজাতকের মুখে প্রথম মধু ছোঁয়ানো। ঘরে ঘরে বহুকাল ধরে চলে আসা এই রেওয়াজের পেছনে অনেকেই সুদিনের কামনা বা মধুর গুণের কথা ভেবে থাকেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, সামান্য এই ভুলের মাশুল গুনতে হতে পারে মারাত্মকভাবে। এক বছরের কম বয়সি শিশুকে কোনোভাবেই মধু দেওয়া উচিত নয় বলে সাফ জানাচ্ছে বিশেষজ্ঞমহল। কিন্তু কেন এই কড়া বারণ?
মধু কেন বিপদের কারণ?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), আমেরিকান একাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স এবং দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসকরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, জন্মের পর প্রথম কয়েক মাস শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অত্যন্ত দুর্বল থাকে এবং হজমশক্তিও পুরোপুরি বিকশিত হয় না।
এমনিতে মধুকে পুষ্টিকর মনে করা হলেও, এর মধ্যে কদাচিৎ ‘ক্লস্ট্রিডিয়াম বটুলিনাম’ (Clostridium botulinum) নামের এক মারাত্মক ব্যাকটেরিয়ার স্পোর বা বীজ লুকিয়ে থাকতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের শক্তিশালী হজমশক্তি এই ব্যাকটেরিয়াকে সহজেই ধ্বংস করে দিলেও, ছোট্ট শিশুর অপরিণত পাকস্থলী তা পারে না। ফলস্বরূপ, ওই ব্যাকটেরিয়া শিশুর অন্ত্রে পৌঁছে মারাত্মক বিষাক্ত পদার্থ বা টক্সিন তৈরি করে।
ভয়ংকর রোগ ‘ইনফ্যান্ট বটুলিজম’
এর থেকেই শিশুর শরীরে বাসা বাঁধতে পারে ‘ইনফ্যান্ট বটুলিজম’ (Infant botulism) নামের একটি মারাত্মক ও বিরল রোগ। প্রখ্যাত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শশাঙ্ক ত্রিবেদী জানিয়েছেন, এই রোগে আক্রান্ত হলে শিশুর তীব্র কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি শিশু ঠিকমতো মায়ের দুধ টানতে পারে না, কান্নার জোর কমে যায়, শরীর নেতিয়ে পড়ে এবং পেশি দুর্বল হয়ে যায়।
পরিস্থিতি জটিল হলে শিশুর শ্বাসপ্রশ্বাসেও মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সাবধানতার খাতিরে ১২ মাস বয়স হওয়ার আগে শিশুর দুধ, জল বা অন্য কোনো খাবারেও মধু মেশানো থেকে বিরত থাকা উচিত। এক বছর বয়স পেরোনোর পরই কেবল সীমিত পরিমাণে মধু দেওয়া নিরাপদ।
জল খাওয়ানোর ক্ষেত্রেও বিশেষ সতর্কতা
শিশুর যত্নের ক্ষেত্রে কেবল মধু নয়, প্রথম ছ’মাস তাকে আলাদা করে জল খাওয়াতেও কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন চিকিৎসকরা। বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মায়ের দুধ থেকেই শিশু প্রয়োজনীয় সমস্ত পুষ্টি এবং জল পেয়ে যায়। এই সময়ে আলাদা করে জল খাওয়ালে শিশুর ছোট পেট অকারণে ভরে যায়, যার ফলে সে মায়ের দুধ কম খায়। তাছাড়া অতিরিক্ত জল পানে শিশুর শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ারও ঝুঁকি থাকে। তাই জীবনের প্রথম ছ’মাস নবজাতকের পুষ্টি ও সুস্থতার জন্য শুধুমাত্র মায়ের দুধই একমাত্র আদর্শ খাবার।