ফের প্রলয়ঙ্করী বন্যা ও ভূমিধসে তছনছ নেপাল! গত কয়েক দিনে মৃত ২১, হাহাকার সর্বত্র

গত মাসের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতে ফের প্রলয়ঙ্করী বন্যা ও ভূমিধসের কবলে পড়ল প্রতিবেশী দেশ নেপাল। লাগাতার বর্ষণ এবং নদীগুলির জলের স্তর বিপদসীমা অতিক্রম করায় নতুন করে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সরকারি সূত্রের খবর, গত কয়েক দিনে বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় নেপালজুড়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২১ জন।
ভয়াবহ ভূমিধস এবং প্রাণহানির ঘটনা
সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার রাতে পালপা জেলার মাথাগধি গ্রামীণ পুরসভায় ভূমিধসের জেরে একটি আস্ত বাড়ি ধসে পড়ে। ধ্বংসাবশেষের নীচ থেকে চাপা পড়ে থাকা পাঁচ জনের মৃতদেহ রবিবার সকালে উদ্ধার করা হয়। এর পাশাপাশি, গত চার দিনে দেশজুড়ে চলা লাগাতার বৃষ্টি, হড়পা বান, ভূমিধস এবং বজ্রপাতে আরও ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে এই দফায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ জনে।
গত পাঁচ দিনে দেশজুড়ে ৪৩৯টি ছোট-বড় দুর্ঘটনার খবর মিলেছে। দুর্গম ও জলমগ্ন অঞ্চলগুলি থেকে নিরাপত্তা বাহিনী তৎপরতার সঙ্গে উদ্ধার করেছে ১,২৮৪ জন মানুষকে।
বিপদসীমা পার করেছে নদীগুলির জল
‘কাঠমান্ডু পোস্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, লুম্বিনি প্রদেশের রুপানদেহি জেলায় শনিবার রাতে তিনাউ নদীর জল বিপদসীমা অতিক্রম করে। এর ফলে বুটওয়াল এলাকায় নদীর তীরবর্তী ছয়টি বাড়ি মুহূর্তের মধ্যে ভেসে যায়। জলের স্তর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রায় ২০০টি বাড়ি সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নিরাপত্তা কর্মীরা রাতারাতি প্রায় ১,০০০ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন।
এদিকে, রবিবার ভোরের দিকে চিতওয়ান জেলায় নারায়ণী নদী এবং রিউ নদীর জলও বিপদসীমা ছাড়িয়ে যায়। দেবঘাটে নারায়ণী নদীর জলের স্তর পৌঁছে যায় ৯.২৩ মিটারে (যেখানে বিপদসীমা ৯ মিটার)। অন্যদিকে, রিউ নদীর জলের স্তর ৩.৯২ মিটারে (বিপদসীমা ৩.৮ মিটার) গিয়ে দাঁড়ায়।
যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন ও প্রশাসনের সতর্কতা
ভারী বর্ষণের জেরে চিতওয়ানের একাধিক এলাকায় ভূমিধস নেমে রাস্তাঘাট সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কর্নালি প্রদেশের প্রধান জাতীয় সড়কগুলিতেও যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। শনিবার নারায়ণী ও সপ্তকোশী নদীর উপচে পড়া জলে নাওয়ালপরাসি পশ্চিম এবং সপ্তরি জেলার ৩৩৮৯টি বাড়ি প্লাবিত হয়। এর ফলে শত শত পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় প্রশাসন অত্যন্ত সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করেছে। বিশেষ করে বন্যা ও ভূমিধসপ্রবণ অঞ্চলগুলিতে বসবাসকারী সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার এবং বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।