ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আড়ালে জঘন্য অপরাধ! ধর্ষণের অভিযোগে তোলপাড় শিখ রাজনীতি, চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

বাহরাইনের এক নারীর ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন নিছক কোনো ব্যক্তিগত বা স্পর্শকাতর ঘটনার গণ্ডি পেরিয়ে এক বিরাট রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংকটের রূপ নিয়েছে। প্রবীণ আকালি নেতা তথা এসজিপিসি সদস্য অমরজিৎ সিং চাওলার বিরুদ্ধে ওঠা এই চাঞ্চল্যকর ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদ করায় এবং ভুক্তভোগী নারীকে প্ল্যাটফর্ম দেওয়ায় শিরোমণি আকালি দলের নেত্রী বিবি রূপ কৌর সান্ধুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলের আদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে নারীর অধিকারের পক্ষে মুখ খোলায় তাঁর বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

বহিষ্কারের নেপথ্য কারণ ও দলের অবস্থান
শিরোমণি আকালি দলের পক্ষ থেকে রূপ কৌরকে দল থেকে তাড়ানোর কারণ হিসেবে বারবার শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অসদাচরণের কথা বলা হলেও, অভিযুক্ত নেতা অমরজিৎ সিং চাওলার বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে দলটি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। অমৃতসরের বাসিন্দা রূপ কৌর সান্ধু দীর্ঘদিন ধরে দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, মুখপাত্র এবং এসওআই-এর জাতীয় সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এর আগেও তিনি নানা রাজনৈতিক বিতর্কে সাহসিকতার সঙ্গে দলের হয়ে লড়েছেন। কিন্তু এবার নিজের দলেরই শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠায় এবং ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ানোয় তিনি নিজেই দলের চক্ষুশূল হয়ে পড়েন।

‘বেঁচে থাকলে সব রহস্য উন্মোচন করব’
সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্ট শেয়ার করে রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন বহিষ্কৃত নেত্রী রূপ কৌর। তাঁর দাবি, বাহরাইনের ওই নারী একা নন, বরং আরও বেশ কয়েকজন নারী তাঁর সাথে যোগাযোগ করে তখত শ্রী কেশগড় সরাইখানায় ঘটে চলা জঘন্য কার্যকলাপের কথা জানিয়েছেন। তিনি হুংকার দিয়ে বলেছেন, “যদি আমি বেঁচে থাকি, তবে আগামী দিনে আরও বড় বড় রহস্য উন্মোচন করব।” একইসঙ্গে ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও পন্থিক মহলে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করা ভণ্ডদের মুখোশ খুলে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছেন তিনি। এমনকি শিখ প্রতিষ্ঠানগুলোকে কলঙ্কিত হওয়া থেকে বাঁচাতে এই সংগঠনগুলোকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের দাবিও জানিয়েছেন রূপ কৌর।

অভিযুক্তের দেশত্যাগ ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
এদিকে এই বিতর্কের জেরে শ্রী আকাল তখত সাহিবের জাঠেদার অভিযুক্ত অমরজিৎ সিং চাওলাকে ‘বজ্র কুরহিত’ বা মহাপাপী আখ্যা দিয়ে আগেই দল থেকে বহিষ্কার করেছিলেন। যদিও চাওলা সমস্ত অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্র বলে উড়িয়ে দিয়ে এসজিপিসি সদস্যপদ ও দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেন, তবে বর্তমানে খবর মিলছে যে তিনি ইতিমধ্যেই দেশ ছেড়ে কানাডায় পালিয়ে গেছেন। এই নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে রূপ কৌর প্রশ্ন তুলেছেন, অভিযুক্ত যদি নির্দোষই হবেন, তবে তিনি কেন দেশ ছাড়লেন? তাছাড়া এফআইআর হওয়া সত্ত্বেও পুলিশ ও প্রশাসন কীভাবে তাঁকে দেশ ছাড়ার সুযোগ দিল, তা নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
গত বছরের ১৭ নভেম্বর বাহরাইন থেকে এক নারী ধর্মীয় তীর্থযাত্রায় পাঞ্জাবে আসেন। আনন্দপুর সাহিবের তখত শ্রী কেশগড় সাহিব সরাইখানায় অবস্থান করার সময় প্রবীণ আকালি নেতা অমরজিৎ সিং চাওলা তাঁকে ধর্ষণ করেন এবং প্রতিবাদ করলে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, ওই নারীকে বেশ কিছুদিন জিম্মি করেও রাখা হয়েছিল বলে এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন বিভিন্ন পন্থিক নেতা ও সংগঠনের দ্বারে ঘুরেও কোনো বিচার না পেয়ে শেষ পর্যন্ত গত ২১ আগস্ট শ্রী আনন্দপুর সাহিব থানায় চাওলার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করেন ওই ভুক্তভোগী নারী। এই ঘটনা পরম্পরায় শিখ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির ভাবমূর্তিও মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *