নারীদের ঘরের ভেতর আটকে রাখাই কি সমাধান? কেন্দ্রকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বড় হুঙ্কার রাহুল গান্ধীর!

দেশে ক্রমবর্ধমান নারী নির্যাতন ও নিরাপত্তা সংকট নিয়ে কেন্দ্র সরকারকে চরম নিশানা করলেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা তথা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। সোশ্যাল মিডিয়ায় নারীদের সমর্থনে একটি অত্যন্ত জোরালো পোস্ট শেয়ার করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, নারীদের ঘরের ভেতরে আটকে রাখা কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না। বরং অপরাধীদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি রাস্তাঘাট নিরাপদ করার দাবি তুলেছেন তিনি।

পিতৃতন্ত্র ও ভুক্তভোগীকে দোষারোপ করার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে তোপ
সোশ্যাল মিডিয়ার বার্তায় রাহুল গান্ধী লিখেছেন, “নারীদের বিরুদ্ধে হওয়া অপরাধের জন্য তাদের শাস্তি দেওয়া বন্ধ করুন। আমাদের দেশজুড়ে নারীরা রাস্তায় বের হতে ভয় পায়, হয়রানির শিকার হওয়ার ভয় পায়, ধর্ষণের ভয় পায়, আর সরকারের প্রতিক্রিয়া হলো ঘরে থাকা। এটাই পিতৃতন্ত্রের খেলা, এমন একটি ব্যবস্থা যা ভুক্তভোগীকে দোষারোপ করে এবং অপরাধীকে রক্ষা করে। এর অবসান ঘটানোর সময় এসেছে।”

তিনি আরও বলেন, নারীদের ঘরের ভেতরে বন্দি করে রাখা কোনো কাজের কথা নয়। আসল সমাধান হলো রাস্তাঘাটকে সম্পূর্ণ নিরাপদ করা, মহিলাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারকারী পুরুষদের বিকৃত মানসিকতার মোকাবিলা করা এবং যারা এই ধরনের হামলা চালায়, তাদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত দ্রুত ও নির্দয়ভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।

তরুণ প্রজন্ম ও ‘জেন জি’ (Gen Z)-দের প্রতি বড় আহ্বান
সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে রাহুল লিখেছেন, বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের যন্ত্রণার প্রতি কর্ণপাতই করছে না। তাদের স্পষ্ট কথা শোনার একমাত্র উপায় হলো তীব্র আন্দোলন ও চাপ সৃষ্টি করা।

প্রতিবাদে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “নারীর সুরক্ষার দাবিতে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী ও তরুণ-তরুণী রাস্তায় নেমেছে। আমি সারা ভারতের তরুণীদের, বিশেষ করে জেন জি-দের, আরও বেশি সংখ্যায় রাস্তায় নামার আহ্বান জানাচ্ছি। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ আপনাদের গণতান্ত্রিক অধিকার, এবং আমি আপনাদের পাশে সর্বান্তকরণে আছি।”

উত্তাল দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ও সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ
এদিকে রাজধানী দিল্লিতে ‘আস্থা কুঞ্জ’ মামলাকে কেন্দ্র করে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভের আগুন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। লেডি শ্রী রাম কলেজ, মিরান্ডা হাউস, গার্গী কলেজ এবং বি আর আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী এই আন্দোলনে রাজপথে নেমেছেন। ক্যাম্পাসের বাইরে হয়রানি, রাস্তার অপর্যাপ্ত আলো এবং সার্বিক নিরাপত্তাহীনতার অজুহাতে নারীদের ওপর নানা ধরনের কড়াকড়ি ও বিধিনিষেধ আরোপ করার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তাঁরা।

ছাত্রছাত্রীদের এই আন্দোলন ইতিমধ্যে আইনি লড়াইয়ের গণ্ডিও ছাড়িয়ে গেছে। বিষয়টি গড়িয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত। গত সোমবারই সুপ্রিম কোর্ট জাতীয় রাজধানীতে নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে ঘটে চলা সাম্প্রতিক অপরাধের ক্রমবর্ধমান ঘটনা নিয়ে দিল্লি সরকার ও দিল্লি পুলিশকে কড়া ভাষায় তলব করেছে এবং একাধিক বিষয়ে জবাব চেয়েছে। সব মিলিয়ে এই ঘটনায় রাজনৈতিক পারদ এখন চড়চড় করে ঊর্ধ্বমুখী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *