একবার চার্জ দিলে ৪৫৬ কিমি ছুটবে! তবুও মাহিন্দ্রার এই গাড়ির দিকে ফিরেও তাকাচ্ছেন না কেউ?

ভারতের ইলেকট্রিক গাড়ির বাজারে মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা এক শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। বিশেষ করে ‘BE 6’ এবং ‘XEV 9S’-এর মতো নতুন ও আধুনিক মডেল আসার পর ইভি সেগমেন্টে টাটা মোটরসের ঠিক পরেই দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে এই দেশীয় জায়ান্ট। এমজি মোটরসকে পেছনে ফেলে সংস্থার এই অগ্রগতি বেশ প্রশংসনীয় হলেও, তাদের অন্যতম জনপ্রিয় এন্ট্রি-লেভেল ইলেকট্রিক গাড়ি ‘Mahindra XUV400 EV’-এর বিক্রি নিয়ে এখন বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। চমৎকার ফিচার ও দুর্দান্ত রেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও এই ইভি কেনার প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ কেন তলানিতে ঠেকেছে, তা নিয়ে অটোমোবাইল মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
বিক্রিতে বিরাট ধস
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে দেশজুড়ে মাহিন্দ্রা XUV400-এর মাত্র ১০টি ইউনিট বিক্রি হয়েছে। অথচ ঠিক এক বছর আগে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে এই গাড়িটির ৬৬টি ইউনিট বিক্রি হয়েছিল। তুলনামূলকভাবে এক বছরের ব্যবধানে গাড়িটির বিক্রি কমেছে ৫৬টি এবং বার্ষিক হিসেবে বিক্রিতে ধস নেমেছে প্রায় ৮৪ শতাংশ। বর্তমান পরিস্থিতিতে কোম্পানির মোট মার্কেট শেয়ারে এই মডেলটির অবদান নেমে এসেছে মাত্র ০.০২ শতাংশে।
ব্যাটারি প্যাক ও দুর্দান্ত ড্রাইভিং রেঞ্জ
বাজারে এক্সক্লুসিভ লুক আর পাওয়ারফুল পারফরম্যান্সের প্রতিশ্রুতি নিয়েই আত্মপ্রকাশ করেছিল এই গাড়িটি। মূলত দুটি ভ্যারিয়েন্টে—EC Pro এবং EL Pro সংস্করণে পাওয়া যায় XUV400। গাড়িটিতে রয়েছে দুটি ব্যাটারি অপশন:
-
৩৪.৫ kWh ব্যাটারি প্যাক: একবার সম্পূর্ণ চার্জ দিলে এটি প্রায় ৩৭৫ কিলোমিটার পর্যন্ত রেঞ্জ দিতে সক্ষম।
-
৩৯.৪ kWh ব্যাটারি প্যাক: এই বড় ব্যাটারি মডেলটিতে কোম্পানির পক্ষ থেকে এক চার্জে ৪৫৬ কিলোমিটার পর্যন্ত দুর্দান্ত ড্রাইভিং রেঞ্জের দাবি করা হয়েছে।
আধুনিক ফিচার এবং কেবিন কমফোর্ট
গাড়ির অন্দরমহল এবং প্রযুক্তিতে কোনো কমতি রাখেনি প্রস্তুতকারক সংস্থা। কেবিনের ভেতরে রয়েছে নতুন ড্যাশবোর্ড, প্রিমিয়াম ডুয়াল-টোন ইন্টেরিয়র এবং একটি আপডেটেড ক্লাইমেট কন্ট্রোল প্যানেল। গাড়িটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো এর ১০.২৫ ইঞ্চির ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম এবং ১০.২৫ ইঞ্চির ডিজিটাল ড্রাইভার ডিসপ্লে।
এছাড়াও যাত্রীদের আরাম ও সুবিধার জন্য রয়েছে ডুয়াল জোন এসি, পেছনের যাত্রীদের জন্য ডেডিকেটেড টাইপ-সি ইউএসবি চার্জার, রিয়ার এসি ভেন্ট, ওয়্যারলেস ফোন চার্জিং, পুশ-বাটন স্টার্ট-স্টপ, হাইট-অ্যাডজাস্টেবল ড্রাইভার সিট এবং একটি আকর্ষণীয় প্যানোরামিক সানরুফ। যাত্রীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে দেওয়া হয়েছে ৬টি এয়ারব্যাগ, রিভার্স ক্যামেরা, টায়ার প্রেশার মনিটরিং সিস্টেম (TPMS) এবং ইলেকট্রনিক স্ট্যাবিলিটি প্রোগ্রাম (ESP)-এর মতো জরুরি সেফটি ফিচার। ভারতীয় বাজারে মূলত টাটা নেক্সন ইভি (Tata Nexon EV)-র সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই দেখা হয় এই গাড়িটিকে।
সংস্থার উন্নত ও নতুন প্রজন্মের অন্যান্য ইভি মডেলগুলোর ভিড়ে এই এন্ট্রি-লেভেল গাড়িটির বিক্রি এভাবে কমে যাওয়ার নেপথ্যে গ্রাহকদের পরিবর্তিত পছন্দই প্রধান ভূমিকা পালন করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।