‘চোপ! এটা থানা, ঝগড়ার জায়গা নয়!’ থানার সামনে দুই বিজেপি নেতার হাতাহাতি, পুলিশের ধমকেই উধাও তেজ

মুখ্যমন্ত্রী বর্ধমান থেকে প্রশাসনিক সভার কাজ সেরে বেরোনোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রকাশ্যে এল শাসক শিবিরের ঘরোয়া দ্বন্দ্ব—তবে তা শাসকদলের নয়, বরং বিজেপির অন্দরের গোষ্ঠীকোন্দল। নতুন জেলা সভাপতি পদে রদবদলের জেরে বর্ধমানে দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ ঘিরে থানা চত্বরেই ধুন্ধুমার কাণ্ড বাঁধালেন স্থানীয় দুই বিজেপি নেতা। একে অপরের বিরুদ্ধে হাতাহাতি ও চিলচিৎকার শুরু করায় শেষ পর্যন্ত আসরে নামতে হয় পুলিশকে। খোদ থানার ডিউটি অফিসারের কড়া ধমকেই মুহূর্তের মধ্যে ঠান্ডা হয়ে যায় দুই নেতার লড়াই।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার গভীর রাতে। বর্ধমানের বেড় মোড় এলাকায় ৪ নম্বর নগর মণ্ডল কার্যালয়ের গেটের ফ্লেক্স, জানালার কাচ ভাঙচুর এবং বাইরে থাকা একটি বাইকে হামলার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার পরই বিবদমান দুই পক্ষ একে অপরের ঘাড়ে দোষ চাপাতে শুরু করে। মণ্ডল সভাপতি অমৃতেন্দু চন্দ্র ওরফে রাজুর দাবি, তাঁর বিরোধী গোষ্ঠীর লোকজনই দলের কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে এবং দলবিরোধী কাজের জন্য তাঁদের আগেই বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে, অপর পক্ষের নেতা মনোজ চক্রবর্তীর পাল্টা দাবি, তাঁকেই এবং তাঁর অনুগামীদের বারবার নিশানা করা হচ্ছে, এমনকি তাঁর বাড়িতেও আগুন লাগানোর মতো ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ নিয়েই শনিবার দুই নেতা তাঁদের অনুগামীদের নিয়ে বর্ধমান থানায় পৌঁছন। কিন্তু থানার মূল ফটকের সামনে পৌঁছতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। থানার গেটের মুখেই একে অপরকে আঙুল উঁচিয়ে তীব্র বচসা ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন রাজু ও মনোজ। দুই নেতার উচ্চস্বরে চিৎকার ও হট্টগোলে পণ্ড হওয়ার উপক্রম হয় থানার স্বাভাবিক পরিবেশ।
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে শেষ পর্যন্ত থানার ভিতর থেকে বেরিয়ে আসেন ডিউটি অফিসার। দুই নেতার দিকে সরাসরি কড়া বার্তা ছুড়ে দিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “চোপ! এটা থানা, এটা আপনাদের ঝগড়া করার জায়গা নয়। যা অভিযোগ আছে লিখিতভাবে দিন।” পুলিশের এই কড়া ধমক খাওয়ার পরেই দুই নেতার সুর নরম হয়। মুহূর্তের মধ্যে তেজ উধাও হয়ে যাওয়ায় তাঁরা সাঙ্গোপাঙ্গদের নিয়ে থানা চত্বর ছেড়ে চলে যান। এই ঘটনায় বর্ধমান জেলা বিজেপির অন্দরের কোন্দল আরও একবার প্রকাশ্যে চলে আসায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে।