‘সরকারি টাকায় মন্দির নয়!’ উত্তরবঙ্গে মহাকাল মন্দির তৈরির পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত থেকে বড়সড় পিছু হটল রাজ্য সরকার

সরকারি তহবিলের অর্থে কোনও ধর্মীয় উপাসনালয় বা মন্দির-মসজিদ নির্মাণ করা যায় না—এই সাংবিধানিক অবস্থান বজায় রেখে উত্তরবঙ্গে মহাকাল মন্দির তৈরির পূর্বনির্ধারিত সিদ্ধান্ত থেকে সরে এল রাজ্য সরকার। মাটিগাড়ায় প্রস্তাবিত এই মন্দির প্রকল্পের পরিবর্তে এবার সেখানে বিশাল ‘মহাকাল যোগা সেন্টার’ বা যোগ সাধনা কেন্দ্র গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গে প্রস্তাবিত ‘দুর্গাঙ্গন’ প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে তীব্র অনিশ্চয়তা।
নবান্ন সূত্রে খবর, মাটিগাড়া-লক্ষ্মী টাউনশিপ এলাকার প্রায় ১৭.৪০ একর জমিতে এই নতুন যোগ সেন্টার তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মূলত বাংলার প্রাচীন যোগের ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করতে এবং তাকে সঠিক মর্যাদা দিতেই এই উদ্যোগ। যদিও মন্দির নির্মাণ করা না হলেও এই নতুন যোগ সেন্টারে একটি বিশাল শিবমূর্তি রাখা হচ্ছে, কারণ যোগসাধনার সঙ্গে আদি দেবতা শিবের গভীর যোগ রয়েছে। পুরো বিষয়টি এই মুহূর্তে রাজ্য সরকারের নতুন আয়ুষ দফতরের আওতায় রূপায়িত হতে পারে বলে খবর।
উল্লেখ্য, দিঘায় জগন্নাথ মন্দির নির্মাণের সময় থেকেই সরকারি অর্থে মন্দির নির্মাণ নিয়ে সরব ছিলেন বিরোধী তথা বর্তমান নেতৃত্ব। সেই অবস্থান থেকে সরে না দাঁড়িয়েই এবার এই নীতিগত বদল আনল রাজ্য প্রশাসন। এই প্রকল্পের রূপায়ণে কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রকের সাহায্যও নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই সিদ্ধান্তের পর দুর্গাঙ্গন প্রকল্পের ভাগ্য ঠিক কী হতে চলেছে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।