‘সকালে মৃত্যুকামনা, বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর আসন কামনা!’ দলবদলের পরই ভোল বদলে ফেললেন হুমায়ুন কবীর?

রাজনীতিতে কখন কী সমীকরণ বদলায়, তার অন্যতম এক নিদর্শন দেখা গেল রবিবার। দিনের শুরুতে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মৃত্যুকামনা করে চরম বিতর্কে জড়িয়েছিলেন নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। কিন্তু বেলা গড়াতেই নিজের সেই অবস্থান থেকে সম্পূর্ণ ইউ-টার্ন নিলেন তিনি। বিকেলে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে উলটো সুর গেয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু তো বটেই, এমনকি তাঁকে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখারও ইচ্ছে প্রকাশ করলেন।
রবিবার সকালে মুর্শিদাবাদের এই বিতর্কিত নেতা বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসেন। তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ দিয়ে তাঁদের রাতের ঘুম কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং কর্মীরা লুকিয়ে বেড়াচ্ছেন। ক্ষোভ উগরে দিয়ে সকালে তিনি দাবি করেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রীর দ্রুত মৃত্যুর জন্য তিনি উপরওয়ালার কাছে প্রার্থনা করবেন। এই মন্তব্যের জেরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। এমনকী, উস্কানিমূলক মন্তব্যের জেরে তাঁর বিরুদ্ধে বহরমপুর থানায় দেশবিরোধী আইনে মামলা করার আর্জি জানিয়ে অভিযোগও দায়ের করে রিপাবলিকান পার্টি অফ ইন্ডিয়া।
আইনি খাঁড়া ঝুলতে না ঝুলতেই বিকেলে একেবারে অন্য মেজাজে ধরা দেন হুমায়ুন কবীর। নিজের আগের মন্তব্য থেকে সম্পূর্ণ সরে এসে তিনি নতুন বার্তা দেন। এ দিন তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী দীর্ঘদিন পৃথিবীতে বেঁচে থাকুন, নিজের পূর্ণ মেয়াদ ভালোভাবে পূরণ করুন এবং মানুষের কাছে সুনাম অর্জন করুন। শুধু তাই নয়, আশ্চর্যের বিষয় হল, তিনি আরও মন্তব্য করেন যে মুখ্যমন্ত্রী যেন একদিন নরেন্দ্র মোদির পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন, যা সমগ্র বাংলার কাছে গর্বের বিষয় হবে। এক দিনে দুই বিপরীতমুখী মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ও কৌতূহল ছড়িয়েছে।