‘জঙ্গিরা চোখ রাঙালে ঘরে ঢুকে মারব!’ সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের ১০ বছর পূর্তিতে পাকিস্তানে হুঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থান আরও একবার অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বিশ্বকে জানিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার তাঁর জনপ্রিয় রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এর ১৩৮তম পর্বে উঠে এল দেশের সুরক্ষা, বীরত্ব এবং ঐতিহাসিক নানা প্রসঙ্গ। সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের দশ বছর পূর্তি থেকে শুরু করে অতীতের বিভিন্ন জঙ্গি হামলা, জনগণনা এবং প্রয়াত অশোক সিংঘলের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা—এ দিনের পুরো ভাষণে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
এ দিন শুরুতেই সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের দশকপূর্তির কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি জানান, ২০১৬ সালের ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর ভারতীয় সেনা পাকিস্তানে জঙ্গিদের গোপন ঘাঁটিতে যে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালিয়েছিল, নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে ভারতীয় সেনার সেই সাহসিকতা দেখে অবাক হয়েছিল গোটা বিশ্ব। অতীতের ধারাবাহিক বোমা বিস্ফোরণ বা মুম্বই হামলার কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জোরালো কণ্ঠে বলেন, আজকের ভারত সন্ত্রাসবাদকে এক বিন্দুও সহ্য করে না। দেশ এখন সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য-সহনশীলতার নীতি নিয়ে চলছে। বালাকোট এয়ারস্ট্রাইক থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক বিভিন্ন অভিযান প্রমাণ করেছে যে, জঙ্গিরা ভারতে চোখ রাঙানোর দুঃসাহস দেখালে তাদের উপযুক্ত ও কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
সন্ত্রাস দমনের পাশাপাশি এ দিনের অনুষ্ঠানে দেশের জনগণনা প্রক্রিয়া নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, দেশের সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে জনগণনার প্রথম পর্ব ইতিমধ্যেই প্রায় সম্পন্ন হয়েছে এবং ৩২ কোটিরও বেশি মানুষের তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। উত্তরাখণ্ডের চামোলির মানা গ্রাম থেকে শুরু হওয়া এই জনগণনা প্রক্রিয়াকে একটি জাতীয় দায়িত্ব বলে উল্লেখ করে তিনি সাধারণ মানুষকে এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
পাশাপাশি, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রাক্তন আন্তর্জাতিক কার্যনির্বাহী সভাপতি প্রয়াত অশোক সিংঘলের জন্মবার্ষিকীতে তাঁর অবদানকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মোদী। তিনি বলেন, রাম জন্মভূমি আন্দোলনে অশোক সিংঘল যে দিশা ও শক্তি জুগিয়েছিলেন, আজ তারই ফলস্বরূপ অযোধ্যায় এই বিশাল ও ভব্য রাম মন্দির মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে।