একদিকে মুষলধারে বৃষ্টি, অন্যদিকে পুড়ে ছাই খেত! মহারাষ্ট্রের ২৬৫টি তালুকে খরা ঘোষণা সরকারের

দেশের একাধিক প্রান্তে যখন প্রবল বর্ষণ ও ঘূর্ণিঝড়ের জেরে জনজীবন বিপর্যস্ত, ঠিক সেই সময়ই সম্পূর্ণ উলটো ছবি মহারাষ্ট্রে। একদিকে যখন ভারী বৃষ্টির দাপট চলছে, তখন রাজ্যের বিশাল অংশে নেমে এসেছে ভয়াবহ খরার সংকট। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে মহারাষ্ট্র সরকার রাজ্যের ৩৫৮টি তালুকের মধ্যে ২৬৫টিকেই—অর্থাৎ প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এলাকাকে খরা-আক্রান্ত বলে ঘোষণা করেছে। একইসঙ্গে কৃষকদের রক্ষায় একাধিক বড় ত্রাণ প্যাকেজ ও সাহায্যের ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার রাজ্য সরকারের জারি করা এক নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৩২টি জেলার ২৬৫টি তালুকা বর্তমানে খরা কবলিত। এর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ছত্রপতি সম্ভাজিনগর বিভাগের, যেখানে সর্বোচ্চ ৭৪টি তালুকা এই বিপদের মুখে পড়েছে। এছাড়াও অমরাবতীতে ৫৬টি, নাসিকে ৪৯টি, নাগপুরে ৩৯টি, পুনেতে ৩৫টি এবং থানেতে ১২টি তালুকা খরা-আক্রান্তের তালিকায় রয়েছে। রায়গড়, রত্নগিরি এবং সিন্ধুদুর্গ জেলার একাধিক তালুকাও এই সংকটের বাইরে নয়।
খরা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের অবিলম্বে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ বা পঞ্চনামা প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জিপিএস ডেটা ও ছবির মাধ্যমে ফসলের প্রকৃত অবস্থা যাচাই করার কথাও বলা হয়েছে। উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
খরা পরিস্থিতি যাচাই করতে রাজ্য সরকার ২০১৬ সালের খরা ব্যবস্থাপনা বিধিমালা এবং কোডের অধীনে ‘ট্রিগার ১’ প্রয়োগ করেছে। সাধারণত কোনো এলাকায় পর্যাপ্ত বৃষ্টির ঘাটতি এবং একটানা ২১ দিন বা তার বেশি খরা পরিস্থিতি বজায় থাকলে এই নিয়ম কার্যকর হয়। কৃষি কমিশনারের রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কৃষকদের জন্য একগুচ্ছ ত্রাণ ঘোষণা:
ঋণ ও রাজস্ব ছাড়: শস্য ঋণ পুনর্গঠন ও সহজীকরণ করা হবে এবং কৃষকদের ভূমি রাজস্ব মওকুফ করা হবে।
বিদ্যুৎ বিলে স্বস্তি: ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কৃষি পাম্পের বিদ্যুৎ বিল মওকুফ করা হবে। সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে না জলসংকট থাকা গ্রামগুলিতে।
শিক্ষার্থীদের সহায়তা: খরা প্রভাবিত এলাকার স্কুল ও কলেজ পড়ুয়াদের পরীক্ষার ফি সম্পূর্ণ মওকুফ করা হবে।
অন্যান্য সহযোগিতা: দুর্গত এলাকায় পানীয় জলের ট্যাঙ্কার পাঠানো, গবাদি পশুর জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য নিশ্চিত করা এবং শ্রমিকদের খাদ্যশস্য সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
কৃষকদের এই ভয়াবহ সংকট থেকে দ্রুত বের করে আনতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করেছে প্রশাসন।