এনসিসিতে ভর্তির শর্ত শরীর! ছাত্রীর ফোনে শিক্ষকের কুপ্রস্তাব আসতেই পর্দাফাঁস, মধ্যপ্রদেশের সরকারি কলেজের অধ্যাপক গ্রেফতার

এনসিসিতে ভর্তির প্রলোভন দেখিয়ে ছাত্রীদের সঙ্গে কুপ্রস্তাব দেওয়ার গুরুতর অভিযোগে এক সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপককে গ্রেফতার করল পুলিশ। অভিযুক্ত অধ্যাপক কেবল ছাত্রীদের যৌন হেনস্থাই করেননি, বরং তাঁর বিরুদ্ধে একে একে সামনে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। আদালত তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে অবিলম্বে জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকেও তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই ঘটনায় মধ্যপ্রদেশের বালাঘাট জুড়ে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ধৃতের নাম ডঃ রাজেন্দ্র সিং কুশরাম। তিনি বালাঘাটের বাইহারের সরকারি অরণ্য ভারতী কলেজের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং একই সঙ্গে কলেজের এনসিসি (NCC) ইন-চার্জের দায়িত্বেও ছিলেন। ঘটনার সূত্রপাত বাইহার থানায় এক কলেজছাত্রীর লিখিত অভিযোগ দায়ের করার মধ্য দিয়ে। ওই ছাত্রীর অভিযোগ, এনসিসিতে নাম নথিভুক্ত করার বিষয়ে কথা বলতে গেলে ডঃ রাজেন্দ্র সিং কুশরাম তাঁকে সরাসরি শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের দাবি জানান। এমনকী ছাত্রীর মোবাইল ফোনে এই সংক্রান্ত কুরুচিকর ও আপত্তিকর চ্যাট বা বার্তাও পাঠানো হয়।
এই ঘটনার পরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। আর তদন্তের পরিধি বাড়তেই একে একে সামনে আসতে শুরু করে আরও অন্ধকার দিক। পুলিশি তৎপরতা দেখে সাহস সঞ্চয় করে আরও তিন জন ভুক্তভোগী ছাত্রী এগিয়ে আসেন এবং একই ধরনের অভিযোগ দায়ের করেন। সব মিলিয়ে মোট চার জন ছাত্রীর সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ নড়েচড়ে বসে। ভুক্তভোগী ছাত্রীদের দেওয়া লিখিত অভিযোগ এবং অত্যন্ত জোরালো ভয়েস রেকর্ডিং বা অডিও প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্ত অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৭৫(২) ধারায় যৌন হয়রানির মামলা রুজু করা হয়।
প্রমাণ হাতে পাওয়ার পর পুলিশ অভিযুক্ত অধ্যাপককে গ্রেফতার করে। তদন্তের ভিত্তিতে একটি বিশদ কেস ডায়েরি তৈরি করে তাঁকে আদালতে তোলা হয়। শুনানিমঞ্চে রাষ্ট্রপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেন সহকারী জেলা প্রসিকিউশন অফিসার নারায়ণ ধুরভে। তিনি অপরাধের তীব্রতা ও গাম্ভীর্যের কথা তুলে ধরে অভিযুক্তের জামিনের জোরালো বিরোধিতা করেন।
উভয়পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারক মামলাটিকে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করেন। এরপরই অভিযুক্ত ডঃ রাজেন্দ্র সিং কুশরামের জামিনের আবেদন খারিজ করে তাঁকে সোজা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত। অন্যদিকে, বিচার প্রক্রিয়ার পাশাপাশি শিক্ষা দফতরও কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বরখাস্তকালীন সময়ে অভিযুক্ত অধ্যাপকের সদর দফতর জবলপুরের আঞ্চলিক অতিরিক্ত উচ্চশিক্ষা পরিচালকের কার্যালয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে। এই ঘটনায় শিক্ষাঙ্গনের স্বচ্ছতা ও শিক্ষক-ছাত্রী সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।