“থানায় নয়, এ বার সোজা SCO-র হাতে!”-পাসপোর্ট যাচাই প্রক্রিয়ায় এল বড়সড় বদল

পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন বা পুলিশ যাচাইকরণ ব্যবস্থায় এবার এক ঐতিহাসিক ও বড়সড় বদল আনল লালবাজার। আগামী ১ অক্টোবর থেকে পাসপোর্টের নতুন আবেদন এবং নবীকরণের ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশনের দায়িত্ব আর স্থানীয় থানাগুলির হাতে থাকছে না। এখন থেকে এই পুরো প্রক্রিয়ার মূল ও প্রধান দায়িত্বে থাকবে কলকাতা পুলিশের সিকিউরিটি কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (এসসিও)।
কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দ ইতিমধ্যেই এই মর্মে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করেছেন। একই সঙ্গে পাসপোর্ট সংক্রান্ত যে ভেরিফিকেশনগুলির কাজ এখনও পর্যন্ত বাকি রয়েছে, সেগুলির বিস্তারিত স্টেটাস রিপোর্টও তলব করেছেন সিপি। শুধু তাই নয়, চলতি বছরের মধ্যেই সমস্ত বকেয়া নথি যাচাইয়ের কাজ দ্রুত শেষ করার কড়া বার্তাও দেওয়া হয়েছে লালবাজারের তরফে।
উল্লেখ্য, এতদিন কলকাতা পুলিশের এসসিও-র পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন থানাও পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের কাজ সামলাত। আবেদনকারীর বাড়ির ঠিকানা এবং নথিপত্র যাচাই-সহ বিভিন্ন স্তরের তদন্ত ও অনুসন্ধান মূলত স্থানীয় থানার আধিকারিকদের মাধ্যমেই করা হতো। কিন্তু গত দু’বছর ধরে পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের প্রক্রিয়া নিয়ে লালবাজারে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়ছিল। সাধারণ আবেদনকারীরাও থানার কার্যপদ্ধতি নিয়ে বিস্তর অভিযোগ তুলছিলেন।
এমনকি, জাল পাসপোর্ট সংক্রান্ত একাধিক গুরুতর মামলার তদন্ত করতে গিয়ে সম্প্রতি কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছে এসসিও। এই সমস্ত দিক বিচার করেই কলকাতার পুলিশ প্রশাসন এই বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নির্দেশিকা কার্যকর হওয়ার পর থেকে নথি যাচাইয়ের কাজের একমাত্র দায়িত্বে থাকবেন এসসিও-র বিশেষ অফিসাররাই। তবে এক ঝটকায় স্থানীয় থানাগুলির দায়িত্ব সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যাচ্ছে না। ইতিমধ্যে থানায় পড়ে থাকা সমস্ত পুরনো পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের আবেদনগুলি দ্রুত নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে।
লালবাজারের জারি করা ওই নির্দেশিকায় সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় ডেপুটি কমিশনারদের উদ্দেশে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তাঁদের অধীনে থাকা থানাগুলিতে ঠিক কতগুলি আবেদন অমীমাংসিত হয়ে পড়ে রয়েছে এবং প্রতি সপ্তাহে কতগুলি আবেদনের নিষ্পত্তি করা হচ্ছে, তার উপর কড়া নজরদারি চালাতে হবে। সেই সঙ্গে আগামী নভেম্বর মাস পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে এই সংক্রান্ত কাজের বিশদ রিপোর্টও তলব করেছে লালবাজার।