“কেরলে মিষ্টি, আর বাংলায় তিতো কেন?” এসআইআর নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি তুলোধোনা শুভেন্দুর!

রবিবার সল্টলেকের বিজেপি কার্যালয়ে এক সাংবাদিক বৈঠকে হাজির হয়ে রাজ্যের শাসকশিবিরকে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শ্রীরামপুরের সভা থেকে পশ্চিমবঙ্গের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে যে তোপ দেগেছিলেন, এদিন তার পাল্টা জবাব দেন তিনি। এসআইআর ইস্যুতে বিরোধীদের নীতিগত ‘দ্বিচারিতা’ নিয়েও তুলোধোনা করেছেন শুভেন্দুবাবু।

শুক্রবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং অপর দুই নির্বাচন কমিশনারের যৌথ ছবি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। সেই ছবিটিকে হাতিয়ার করেই এদিন মুখ খোলেন শুভেন্দু। তিনি স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেন, গতকালের ওই প্রেস কনফারেন্সের ছবিই প্রমাণ করে দিয়েছে যে এসআইআর-সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্তই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার একা নেননি। তিনজন কমিশনারই একসঙ্গে বসে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বিরোধীদের অবস্থানের সমালোচনা করে শুভেন্দু কটাক্ষের সুরে বলেন, কেরলে এসআইআর প্রক্রিয়াকে কংগ্রেস ভালো বা ‘মিষ্টি’ বলছে কারণ সেখানে তাদের রাজনৈতিক ফায়দা হয়েছে এবং ভোট কাটাকাটির সমীকরণে তারা ঢুকে পড়েছে। কিন্তু সেই একই প্রক্রিয়া পশ্চিমবঙ্গের বেলায় শাসকদলের কাছে ‘তিতো’ ঠেকছে। অন্যদিকে সিপিআইএম সম্পর্কে তাঁর মন্তব্য, তারা এখন কেবল সোশ্যাল মিডিয়ার গণ্ডীতেই সীমাবদ্ধ, বাস্তবে তাদের কোনো অস্তিত্ব নেই।

এদিনের বৈঠকে সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূল কংগ্রেসের আইনি লড়াইয়ের প্রসঙ্গও তোলেন শুভেন্দুবাবু। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিকবার সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল। সুপ্রিম কোর্ট তাদের বিশেষ ক্ষমতা অর্থাৎ আর্টিকেল ১৪২ (Article 142) প্রয়োগ করে ইআরও (ERO)-দের ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে বিচারকদের হাতে তুলে দিয়েছিল। প্রায় ৬০ লক্ষ লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির মধ্যে ২৭ লক্ষের মতো মামলার ক্ষেত্রে বিচারকরাই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। সবমিলিয়ে, এসআইআর নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর এই আক্রমণাত্মক মন্তব্য আসন্ন দিনে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি করল।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *