‘সাঁইবাড়ি-নন্দীগ্রাম ভুলে গেলেন?’ CPM-র কাছে আসতেই মমতাকে চরম আক্রমণ শুভেন্দুর

ভোটের ময়দানে সমীকরণ বদলাতে সময় লাগে না। রাজনীতিতে চিরশত্রু বলে যে কিছু হয় না, শ্রীরামপুরের জনসভা এবং তার পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ যেন সেটাই ফের প্রমাণ করল। নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং বিজেপি বিরোধী জোটকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সম্প্রতি সব বিরোধী দলের নেতাদের চিঠি দিয়েছিলেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক এম এ বেবি। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে সিপিএম সাধারণ সম্পাদকের প্রস্তাবে ইতিবাচক সায় দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, দু’জনের মধ্যে ফোনেও দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে বলে খবর। যে সিপিএমের ক্ষমতাচ্যুতির দাবিতে বছরের পর বছর রাজপথ কাঁপিয়েছেন মমতা, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেও যাদের তীব্র রাজনৈতিক বিরোধিতা চালিয়ে গেছেন—আজ সেই বাম শিবিরের সঙ্গেই তাঁর এই সখ্যতা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক গুঞ্জন। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মতাদর্শ বিসর্জন দিতে চলেছেন তৃণমূলনেত্রী? আর এই ইস্যুকেই হাতিয়ার করে সাংবাদিক বৈঠক থেকে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানাতে দেখা গেল।

ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ কর্মসূচি ‘SIR’-কে কেন্দ্র করে বর্তমানে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। শ্রীরামপুরের জনসভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি হুঙ্কার ছেড়ে তৃণমূল সুপ্রিমো ঘোষণা করেছেন, ‘হাম ডরেঙ্গে নেহি, বিজেপি কো ছোড়েঙ্গে নেহি।’ SIR-এর আড়ালে বাংলাকে কব্জা করার গভীর চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। অন্যদিকে, এই পুরো ঘটনাপ্রবাহের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রবিবার সকালে এক সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে একহাত নেন বিজেপি নেতা তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে, SIR ইস্যুতে তৃণমূল ও সিপিএমের এই নতুন বোঝাপড়াকে ‘রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা’ বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি।

এ দিনের সাংবাদিক বৈঠকে বিগত বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের জেরে বিরোধী শিবিরের মধ্যে চরম হতাশা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন শুভেন্দু। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, একটি সাম্প্রতিক সংবাদপত্রের প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বামফ্রন্ট যৌথভাবে বিভ্রান্তি ও অসত্য বিতর্ক তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। অতীতে তৃণমূলের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘একসময় কংগ্রেস থেকে ঘাড় ধাক্কা খাওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল গঠন করেছিলেন ৩৪ বছরের সিপিআইএম সরকারের অত্যাচার থেকে বাংলাকে মুক্তি দিতে। যে সিপিআইএম সাঁইবাড়ি ঘটিয়েছিল, নন্দীগ্রামের মহিলাদের সম্মানহানি করেছিল, ধানতলা বা তিলজলার আনন্দমার্গীদের পুড়িয়ে মেরেছিল এবং রাজ্যের ৫৪ হাজার কলকারখানা বন্ধ করে দিয়েছিল— আজ ক্ষমতার তাগিদে তাদের সঙ্গেই হাত মিলিয়েছেন মমতা।’ কটাক্ষের সুরে তিনি আরও যোগ করেন, ‘যে সিপিআইএম-এর নাম ও নিশান কার্যত বাংলা থেকে মুছে গেছে, আজ মহাশূন্যে বিচরণ করা সেই দলের সঙ্গে তৃণমূলের এই আঁতাত তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনাকেই স্পষ্ট করে।’

উল্লেখ্য, গত ৪ মে পালাবদলের পর এই প্রথম কলকাতার বাইরে কোনও প্রকাশ্য জনসভায় যোগ দিলেন তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাতা নেত্রী। শ্রীরামপুরের সেই সভা থেকে মমতা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বিজেপি বিরোধী আন্দোলনে তিনি সমস্ত সমমনোভাবাপন্ন দলকে সঙ্গে নিয়ে চলতে চান। নাম না করে এ দিন তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, সিপিএমের সঙ্গে হাত মেলাতেও তাঁর বা দলের আর কোনও রাজনৈতিক ছুতমার্গ নেই। তবে ঘরের মাঠে বিরোধী শিবিরের এই নতুন মেরুকরণ আসন্ন দিনে রাজ্য রাজনীতিকে কোন দিকে চালিত করে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *