শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্তি নিয়ে বিরোধ! টাটা সন্সের অন্দরের এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানলে চমকে যাবেন

তৃতীয় মেয়াদে টাটা সন্সের চেয়ারম্যান পদে থাকার বিষয়ে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন নটরাজন চন্দ্রশেখরন। তবে সমস্ত জল্পনা ও মতবিরোধকে পাশ কাটিয়ে টাটা সন্স বোর্ড তাঁকে আরও তিন বছরের মেয়াদে বহাল রাখার পক্ষে রায় দিয়েছে। রাজধানী দিল্লির অর্থমন্ত্রকের কার্যালয় বা ‘নর্থ ব্লক’ থেকে আসা অপ্রকাশ্য চাপ এক্ষেত্রে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারের স্পষ্ট বার্তা ছিল, দেশের অন্যতম বৃহত্তম এই শিল্পগোষ্ঠীর কাজকর্ম যেন নেতৃত্বের কোনো সমস্যার কারণে অস্থিতিশীল না হয়ে পড়ে।
বোর্ডের অন্দরে মতভেদ ও নোয়েল টাটার বিরোধিতাসূত্র
বেসরকারি কোম্পানি হওয়ায় টাটা সন্সের বোর্ড সভার সিদ্ধান্তগুলো প্রকাশ্যে জানানো না হলেও জানা গিয়েছে যে ছয় সদস্যের বোর্ড ৪-১ ভোটে চন্দ্রশেখরনকে পুনরায় বহাল রাখার পক্ষে ভোট দিয়েছে। টাটা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান তথা টাটা সন্সের নন-এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর নোয়েল টাটা এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেন। এমনকি হোল্ডিং কোম্পানিটিকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেও তিনি ভোট দিয়েছিলেন। রিজার্ভ ব্যাংকের নির্দেশ মেনে আপার লেয়ার এনবিএফসি হিসেবে টাটা সন্সকে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত করার পক্ষে বোর্ডের বাকি সদস্যরা অবস্থান নিলেও, নোয়েল টাটা তা চান না। এর জেরে টাটা সন্সের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব ও দ্বন্দ্ব আরও বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে।
বড় জটিলতার মুখে বার্ষিক সাধারণ সভা
টাটা সন্সের মালিকানার সিংহভাগই রয়েছে দাতব্য ট্রাস্টগুলোর হাতে। এর মধ্যে ‘স্যার রতন টাটা ট্রাস্ট’ (এসআরটিটি)-র হাতে ২৩.৫৬ শতাংশ এবং ‘স্যার দোরাবজি ট্রাস্ট’ (এসডিটিটি)-র হাতে প্রায় ২৭.৯৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। বোর্ডে নোয়েল টাটা এসআরটিটি-র প্রতিনিধিত্ব করলেও এসডিটিটি-র প্রতিনিধি বেণু শ্রীনিবাসনের সঙ্গে তাঁর প্রকাশ্য মতপার্থক্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। মহারাষ্ট্রের চ্যারিটি কমিশনার এসডিটিটি-র বোর্ড মিটিংয়ের ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ দেওয়ায় বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) ট্রাস্টের যৌথ প্রতিনিধি নিয়োগ করা সম্ভব হয়নি, যার ফলে গত ১৮ আগস্টের সভা স্থগিত রাখতে হয়।
সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এই স্থগিত হয়ে যাওয়া বার্ষিক সাধারণ সভা আয়োজন করা বাধ্যতামূলক। এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান হিসেবে চন্দ্রশেখরনের তৃতীয় মেয়াদ পাকাপাকি করতে এবং ডিরেক্টর হিসেবে তাঁর পুনর্নিয়োগের বিষয়টিতে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নিতে এই সভা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। ট্রাস্টের মনোনীত প্রতিনিধিদের এই গৃহযুদ্ধ শেষ পর্যন্ত টাটা গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার।