এককালীন নয়, অল্প সঞ্চয়েই কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন! এসআইপি-র এই জাদুকরী হিসেব জানলে চমকে যাবেন

২০০ টাকা করে জমালেই ২০ লক্ষ! SIP-এর এই সহজ হিসাব জানলে চমকে যাবেন
বড় অঙ্কের টাকা একসঙ্গে বিনিয়োগ করার সুযোগ না থাকলেও সামান্য কিছু সঞ্চয় করে দীর্ঘমেয়াদে বিশাল সম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব। এর জন্য প্রধানত প্রয়োজন নিয়মিত বিনিয়োগ, আর্থিক শৃঙ্খলা এবং ধৈর্য। মিউচুয়াল ফান্ডের সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান বা ‘এসআইপি’ (SIP) এই কাজটিকে এখন সাধারণ মানুষের নাগালে নিয়ে এসেছে। চাইলে প্রতিদিন অল্প অল্প করে টাকা জমিয়ে ভবিষ্যতের বড় আর্থিক লক্ষ্য সহজেই পূরণ করা সম্ভব।
কীভাবে তৈরি হবে কুড়ি লক্ষ টাকার তহবিল?
ধরা যাক, কোনো ব্যক্তি প্রতিদিন নিয়ম করে মাত্র ২০০ টাকা করে বিনিয়োগ করছেন। অর্থাৎ মাসে গড়ে প্রায় ৬,০০০ টাকা জমা হচ্ছে, যা বছরে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৭৩,০০০ টাকায়। দীর্ঘ সময় ধরে এই পদ্ধতি বজায় রেখে যদি গড়ে বার্ষিক ১২ শতাংশ রিটার্ন পাওয়া যায়, তবে চক্রবৃদ্ধি সুদের জাদুতে এক বিশাল করপাস তৈরি হতে পারে।
হিসাব বলছে, প্রায় ১২ বছর ২ মাস ধরে প্রতিদিন ২০০ টাকা করে জমালে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ হবে ৮,৯০,৬০০ টাকা। এর ওপর ১২ শতাংশ প্রত্যাশিত রিটার্ন মিললে আনুমানিক ১১,৩১,০৫৫ টাকা লাভ হতে পারে। ফলে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে হাতে আসবে মোট প্রায় ২০,২১,৬৫৫ টাকা! অর্থাৎ, প্রতি মাসে মাত্র ছয়েক হাজার টাকা বিনিয়োগের মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদে কুড়ি লক্ষ টাকার বেশি তহবিল জমানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। যত বেশি সময় ধরে টাকা বিনিয়োগের টেবিলে থাকে, চক্রবৃদ্ধির সুবাদে রিটার্নের ওপর রিটার্ন জমার সুযোগও তত বেশি বাড়ে।
স্টেপ-আপ এসআইপি ও কিছু সতর্কবার্তা
বিনিয়োগকারীরা চাইলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের বিনিয়োগের পরিমাণও বাড়িয়ে নিতে পারেন। আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতি বছর এসআইপি-র অঙ্ক প্রায় ১০ শতাংশ করে বৃদ্ধি করার এই পদ্ধতিকে ‘স্টেপ-আপ এসআইপি’ (Step-up SIP) বলা হয়। এভাবে নিয়মিত বিনিয়োগ বাড়াতে পারলে একই সময়ে জমানো অর্থের পরিমাণ আরও অনেক বেশি হতে পারে।
তবে মনে রাখা জরুরি যে, মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ সর্বদা বাজারের ওঠানামার ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত। এখানে ধরা ১২ শতাংশ রিটার্ন কোনো নিশ্চিত বা গ্যারান্টিযুক্ত আয় নয়; বরং প্রকৃত লাভ সম্পূর্ণভাবে বাজারের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। তাই শুধুমাত্র সম্ভাবনার হিসাব দেখে তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত না নিয়ে, বড় কোনো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আগে নিজের ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা ও আর্থিক লক্ষ্য ভালো করে যাচাই করে নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে কোনো অভিজ্ঞ আর্থিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে পরিকল্পনা করলে ঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।