পুরোনো নিয়ম বাতিল, আমেরিকার নতুন ইমিগ্রেশন নীতিতে মাথায় হাত প্রবাসী ভারতীয়দের! কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন দেখা ভারতীয়দের জন্য বড়সড় ধাক্কার বার্তা নিয়ে এল ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (USCIS)। ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়ায় আর্থিক সচ্ছলতা ও সার্বিক পটভূমি যাচাইয়ের নিয়মে ব্যাপক কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। বিশেষ করে আবেদনকারী ভবিষ্যতে মার্কিন সরকারের ওপর নির্ভরশীল বা ‘পাবলিক চার্জ’ হয়ে উঠবেন কি না, তা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অভিবাসন আধিকারিকদের হাতে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ক্ষমতা তুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ২০২২ সালের তুলনামূলক শিথিল নিয়মটি বাতিল হয়ে আরও কঠোর পর্যালোচনার পথ তৈরি হলো।
কী পরিবর্তন এল নতুন নিয়মে?
এই নতুন নিয়মের আওতায় কেবল নির্দিষ্ট অঙ্কের আয় বা চাকরি থাকলেই আর নিশ্চিন্ত থাকার উপায় নেই। অভিবাসন কর্মকর্তারা এখন আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, আর্থিক সম্পদ, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং পেশাগত দক্ষতার মতো সামগ্রিক বিষয়গুলো খুঁটিয়ে দেখবেন। পাশাপাশি অতীতে নেওয়া আবাসন, খাদ্য বা পড়াশোনার জন্য সরকারি সহায়তার মতো বিষয়গুলোকেও তদন্তের পরিসরে আনা হয়েছে। তবে কোনো সরকারি সুবিধা নিলেই যে আবেদন সরাসরি খারিজ হয়ে যাবে, তা নয়; বরং গোটা পরিস্থিতি বিচার করে তবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এমনকি ১৮ তারিখ থেকে ‘ফর্ম আই-৪৮৫’ (Form I-485)-এর নতুন সংস্করণ ছাড়া পুরোনো কোনো আবেদনপত্র গ্রহণ করা হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে কারা?
এই সিদ্ধান্তের ফলে সবচেয়ে বেশি সতর্ক হতে হচ্ছে আমেরিকায় কর্মরত হাজার হাজার ভারতীয় পেশাজীবীদের, যাঁরা মূলত কর্মসংস্থানভিত্তিক ক্যাটাগরিতে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করছেন। যদিও শরণার্থী বা বিশেষ কিছু সুরক্ষাপ্রাপ্ত ক্যাটাগরি এই কঠোর নিয়মের বাইরে থাকছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই প্রক্রিয়ায় বিভ্রান্তি এড়াতে আবেদনকারীদের নিজেদের ব্যাংক ব্যালান্স, সম্পত্তির হিসেব, কাজের অভিজ্ঞতা এবং সরকারি সহায়তার সমস্ত নথি অত্যন্ত নিখুঁত ও গুছিয়ে রাখতে হবে। তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের দাবি, নতুন এই নিয়ম নিয়ে আমেরিকায় ইতিমধ্যেই আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে, যার ফলে আগামী দিনে এর বাস্তবায়নে আরও কোনো রদবদল আসে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন প্রবাসীরা।