ছুরি দেখলে আজও চমকে ওঠেন সইফ! চাঞ্চল্যকর সেই হামলার ঘটনার পর ঠিক কী ঘটেছিল অন্দরমহলে?

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বান্দ্রার বাড়িতে অভিনেতা সইফ আলি খানের ওপর চলা সেই ভয়াবহ হামলার এক বছর পেরিয়ে গেলেও পরিবারের মানসিক ক্ষত এখনও পুরোপুরি শুকোয়নি। বাড়িতে ঢুকে আকস্মিক সেই হামলায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছিল সইফকে। তবে সেই বিপদের দিনগুলির মাঝেও অন্দরমহলে ঘটে যাওয়া এক আবেগঘন ও চাঞ্চল্যকর অধ্যায়ের কথা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রকাশ্যে আনলেন করিনা কাপুর খান।

তৈমুরের অনুরোধ ও পুলিশের চাঞ্চল্যকর তথ্য

করিনা জানান, ঘটনার তদন্তের পর পুলিশ তাঁদের জানিয়েছিল যে অভিযুক্ত ব্যক্তি মূলত টাকার প্রয়োজনেই বাড়িতে ঢুকেছিল এবং মায়ের অস্ত্রোপচারের জন্য ১ কোটি টাকা তার দরকার ছিল বলে দাবি করেছিল। এই তথ্য সামনে আসার পরেই তাঁদের বড় ছেলে তৈমুর সইফকে উদ্দেশ করে বলে, ‘‘আব্বা, ওকে ক্ষমা করে দাও।’’

করিনার কথায়, সইফ নিজেও মনে করতেন যে ওই ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দেওয়া উচিত, ফলে ছেলের এই সরল কথাটি নবাবের সিদ্ধান্তে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। তবে একজন মায়ের ও স্ত্রীর মানসিক অবস্থান থেকে করিনার জন্য সেই ক্ষমার সিদ্ধান্ত নেওয়া এতটাও সহজ ছিল না। সইফের শারীরিক যন্ত্রণার কথা স্মরণ করে তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, একদিকে যেমন ক্ষমা করার কথা ভাবা যায়, তেমনই অন্যদিকে ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রশ্নটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভয়াবহ সেই স্মৃতির প্রভাব

এর আগে খোদ সইফও হামলাকারীকে ক্ষমা করে দেওয়ার ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর ধারণা ছিল, ওই ব্যক্তি সরাসরি মারামারি করতে আসেনি, বরং আর্থিক সংকটই তাকে এমন চরম পথ বেছে নিতে বাধ্য করেছিল। সমাজের আর্থিক বৈষম্যের প্রসঙ্গও টেনেছিলেন অভিনেতা। যদিও শারীরিক আঘাত কাটিয়ে সইফ কাজে ফিরলেও, সেই রাতের আতঙ্ক এখনও তাঁকে তাড়া করে বেড়ায়। করিনা জানিয়েছেন, ছুরি বা ধারালো কিছু দেখলেই আজও সইফের মনের মধ্যে সেই পুরোনো আতঙ্কের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *