বিখ্যাত ব্র্যান্ডের মদ নিয়ে বম্বে হাইকোর্টের বিস্ফোরক রায়! আপনি যা খাচ্ছেন তা কি আদৌ আসল?

ফিস সামলে ছুটির সন্ধ্যায় বা উইকেন্ডের আড্ডায় ক্লান্তি দূর করতে অনেকেই একটু চুমুক দেন। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, রাম, হুইস্কি কিংবা ভদকার মধ্যে রাসায়নিক স্তরে আদতে কোনো তফাত আছে কি না? তিনটি পানীয়তেই যখন একই অ্যালকোহল ব্যবহার করা হয়, তবে এদের আসল পার্থক্যটা ঠিক কোথায়? সম্প্রতি ওল্ড মঙ্ক (Old Monk) ব্র্যান্ডকে ঘিরে বম্বে হাইকোর্টে যে আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা এই সমস্ত লুকোনো সত্যকে একেবারে সামনে নিয়ে এসেছে।

রাসায়নিক গঠন এবং ইএনএ (ENA)-র আসল খেলা

বিজ্ঞানের চোখে বিচার করলে, রাম এবং হুইস্কিতে থাকা অ্যালকোহল সম্পূর্ণ এক। ইথানল হলো একটি ছোট ও সরল অণু, যার রাসায়নিক সংকেত সব জায়গায় একই থাকে— তা সে আখ, বার্লি বা অন্য কোনো উৎস থেকেই তৈরি হোক না কেন। ভারতে বিক্রি হওয়া বেশিরভাগ রাম ও হুইস্কি এক্সট্রা নিউট্রাল অ্যালকোহল বা ইএনএ (ENA)-এর ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়। পাতন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই অ্যালকোহলকে এতটাই বিশুদ্ধ করা হয় যে এর ভেতর থেকে সমস্ত প্রাকৃতিক উপাদান বা কনজেনার (Congeners) প্রায় উধাও হয়ে যায়। এরপর এর সঙ্গে জল, কৃত্রিম রং এবং ফ্লেভার মিশিয়ে বোতলজাত করা হয়।

তাহলে স্বাদের এই ফারাক কেন?

পানীয়ের আসল পরিচয় লুকিয়ে থাকে তার কনজেনার এবং পরিপক্কতার প্রক্রিয়ার মধ্যে। প্রাকৃতিক উপায়ে দীর্ঘ সময় ধরে ওক কাঠের পিপায় রাখা হুইস্কি বা জ্যামাইকান রামের সঙ্গে কৃত্রিম ফ্লেভার মেশানো স্পিরিটের আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে। সাম্প্রতিক মামলায় এফএসএসএআই (FSSAI) আদালতকে জানিয়েছে যে, জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ওল্ড মঙ্কের মাত্র ৫ শতাংশ ছিল পুরোনো রাম, আর বাকিটা ছিল সাধারণ স্পিরিট ও ফ্লেভার। এর জেরে প্রস্তুতকারক সংস্থাও তাদের লেবেল থেকে বয়স সংক্রান্ত দাবি সরাতে বাধ্য হয়। তাই পরের বার গ্লাসে চুমুক দেওয়ার আগে জেনেশুনেই তা উপভোগ করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *