ফেলনা নয়, এবার সব হবে সোনা! বর্জ্য সামলাতে ভারতের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপে থমকে যাবে বিশ্ব

পুরোনো ফোন বা ল্যাপটপ একটু খারাপ হলেই কি আমরা সোজা নতুন কেনার কথা ভাবি? বোতল খালি হলেই কি তা ডাস্টবিনে ফেলে দিই? আমাদের আধুনিক জীবনযাত্রা এতদিন ধরে মূলত ‘উৎপাদন করো, ব্যবহার করো এবং ফেলে দাও’—এই নীতিতেই অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। কিন্তু পরিবেশ বাঁচাতে এবং পৃথিবীর ভবিষ্যত সুরক্ষিত করতে এখন এই ধারণার আমূল পরিবর্তনের সময় এসে গেছে। জিনিস বদলানোর পরিবর্তে তা মেরামত করা এবং ‘সার্কুলার ইকোনমি’ বা চক্রাকার অর্থনীতির অংশ হয়ে ওঠার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

চলতি মাসের ১৫ থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গুজরাটের গান্ধীনগরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘ওয়ার্ল্ড সার্কুলার ইকোনমি ফোরাম ২০২৬’। দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক ফোরামে বিশ্বের ৬২টি দেশ থেকে ৩,৬০০-র বেশি অংশীজন এবং ১৩৫ জন প্রদর্শক যোগ দিয়েছেন। অনুষ্ঠানে জলের পুনঃব্যবহার, শিল্পবর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ, টেকসই নকশা এবং চক্রাকার অর্থায়ন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

ই-বর্জ্যের পাহাড় ও মেরামতের সংস্কৃতি আধুনিকতার ছোঁয়ায় আমাদের সমাজে প্রতি মুহূর্তে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ই-বর্জ্য বা ইলেকট্রনিক আবর্জনা। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ সালে ভারতে ১.২৫৪ মিলিয়ন মেট্রিক টন ই-বর্জ্য উৎপন্ন হয়েছিল, যা পরের বছর অর্থাৎ ২০২৪-২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.৩৯৮ মিলিয়ন মেট্রিক টনে। এক বছরের ব্যবধানে এই বিপুল পরিমাণে বর্জ্য বৃদ্ধি অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। যদিও এর মধ্যে ৭০ শতাংশের বেশি বর্জ্য সংগ্রহের পর প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে, তবুও প্রশ্ন থেকে যায় যে সামান্য খরচে জিনিস সারিয়ে নেওয়ার বদলে আমরা আর কতদিন ঘন ঘন নতুন পণ্য কিনে ই-বর্জ্যের পাহাড় বাড়াতে থাকব?

বর্তমানে কোনো ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম নষ্ট হলে তা মেরামতের চেয়ে নতুন কিনে নেওয়া অনেক সহজ মনে করেন সাধারণ মানুষ। অনেক সময় যন্ত্রাংশ সহজে না পাওয়া বা মেরামতের চড়া খরচের কারণে বাধ্য হয়েই নতুন পণ্য কিনতে হয় ক্রেতাদের। এই সমস্যার সমাধানে এবার বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পণ্যের গায়ে যেমন মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ থাকে, তেমনই ইলেকট্রনিক বা যান্ত্রিক পণ্যের আনুমানিক আয়ুষ্কাল বা স্থায়িত্ব উল্লেখ করার বিষয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে। এর ফলে ক্রেতারা পণ্য কেনার আগেই বুঝতে পারবেন সেটি কতদিন টিকবে। এছাড়া সরকার ‘রাইট টু রিপেয়ার পোর্টাল’ এবং ‘রিপেয়ারেবিলিটি ইনডেক্স’-এর মতো কাঠামোর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য মেরামত প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করে তোলার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চক্রাকার অর্থনীতির আসল অর্থ শুধু বর্জ্য কমানোই নয়, বরং কোনো জিনিস আবর্জনার স্তূপে ফেলার আগে সেটির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা। আজ যা আপনার কাছে অকেজো বা পুরোনো মনে হচ্ছে, সঠিক মেরামতের মাধ্যমে তা অন্য কারও বড় উপকারে লাগতে পারে। তাই নতুন কিছু কেনার আগে পুরোনো জিনিসটি সারিয়ে ব্যবহার করা যায় কি না, সেই কথাটি ভেবে দেখার সময় এখনই এসেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *