১০ কোটির তোলাবাজি কাণ্ড! দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে তৃতীয় চার্জশিটে বড়সড় আর্থিক দুর্নীতির হদিশ

তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে চলা আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে নতুন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। বুধবার বারাসত আদালতে দেবরাজের বিরুদ্ধে তৃতীয় চার্জশিট জমা দিয়েছে বিধাননগর কমিশনারেট। আর সেই চার্জশিটেই গোয়েন্দাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তোলাবাজির মাধ্যমে সংগৃহীত কোটি কোটি টাকা ঘুরপথে গিয়ে পৌঁছেছিল শাসকদলের যুব শাখার অ্যাকাউন্ট এবং পরবর্তীতে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার সঙ্গে যুক্ত অ্যাকাউন্টে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, লেকটাউন এবং বাগুইআটি এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব খাটিয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকা তোলাবাজি করেছিলেন দেবরাজ চক্রবর্তী। তদন্তে উঠে এসেছে, এই বিশাল অঙ্কের টাকা প্রথমে সরাসরি জমা হতো পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল যুব কংগ্রেসের অ্যাকাউন্টে। এরপর সেই অর্থের একটি অংশ স্থানান্তরিত হয় ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার সঙ্গে যুক্ত অন্য একটি অ্যাকাউন্টে।
তৃতীয় এই চার্জশিটে মূলত টাকার উৎস এবং তার গন্তব্য বা ‘মানি ট্রেল’ খতিয়ে দেখার ওপর জোর দিয়েছেন তদন্তকারীরা। কোন ব্যক্তির কাছ থেকে ঠিক কত টাকা তোলা হয়েছিল, কোন কোন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সেই টাকা বিভিন্ন স্তরে ঘুরল এবং শেষ পর্যন্ত কোন কোন সংস্থায় সেই অর্থ পৌঁছল, তার সম্পূর্ণ আর্থিক ধারাবাহিকতা তৈরি করার চেষ্টা করছে পুলিশ।
তদন্তকারী অফিসারদের নজরে রয়েছে একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট, এনইএফটি, আরটিজিএস এবং আইএমপিএস লেনদেনের তথ্য। তোলাবাজির টাকা নগদ হিসেবে তোলা হয়েছিল কি না বা ব্যবসার আড়ালে তা অন্য কোথাও সরিয়ে ফেলা হয়েছিল কি না, তাও গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিধাননগর কমিশনারেটের এই তৃতীয় চার্জশিট পেশের পর দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে চলা এই মামলায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।