ডেবিট কার্ড থেকে শুরু করে এটিএম ব্যবহার—ব্যাঙ্কের কোন ১০টি ভুলের জন্য পকেট কাটে আপনার?

আজকের দিনে ইউপিআই (UPI) থেকে শুরু করে ডিজিটাল লেনদেন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ হয়ে উঠেছে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বড় শপিং মল—সর্বত্রই এখন পেমেন্টের মাধ্যম বলতে ডিজিটাল মাধ্যম। তবে আর্থিক লেনদেন যতই সহজ হোক না কেন, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে এমন বেশ কিছু লুকোনো চার্জ বা ফি রয়েছে, যা সম্পর্কে বেশিরভাগ গ্রাহকই ওয়াকিবহাল নন। না জেনেই বছরের পর বছর অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে যায় টাকা। ব্যাঙ্কের এই ১০টি গুরুত্বপূর্ণ চার্জ সম্পর্কে জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
১. এটিএম বা ডেবিট কার্ডের বার্ষিক চার্জ: ডেবিট কার্ড ব্যবহার করুন বা না করুন, অনেক ব্যাঙ্কেই নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্ট ভেদে বার্ষিক ১৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত মেইনটেন্যান্স ফি কাটা হয়। এর সঙ্গে যোগ হয় ১৮ শতাংশ পর্যন্ত জিএসটি (GST)।
২. অন্য ব্যাঙ্কের এটিএম ব্যবহার: নিজের ব্যাঙ্কের এটিএম থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যক লেনদেন বিনামূল্যে করা গেলেও, সীমা পেরোলে অতিরিক্ত প্রতিটি লেনদেনের জন্য প্রায় ২১ থেকে ২৩ টাকা এবং তার সঙ্গে জিএসটি দিতে হয়। ব্যালান্স চেক করার মতো ছোটখাটো বিষয়ের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।
৩. নির্ধারিত সীমার বেশি নগদ তোলা: প্রতিটি ডেবিট কার্ডে দৈনিক টাকা তোলার একটি নির্দিষ্ট সীমা থাকে। সেই সীমার বাইরে অতিরিক্ত নগদ তোলার চেষ্টা করলে ব্যাঙ্ক অতিরিক্ত চার্জ কাটতে পারে।
৪. ব্যাঙ্কের শাখায় ক্যাশ লেনদেন: ব্যাঙ্কের ফিজিক্যাল ব্রাঞ্চে গিয়ে নির্দিষ্ট সীমার বেশি নগদ জমা বা তোলা হলে অতিরিক্ত ফি দিতে হয়। কিছু অ্যাকাউন্টে এই চার্জ ১৫০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
৫. ন্যূনতম ব্যালান্স না রাখার খেসারত: সেভিংস অ্যাকাউন্টে ন্যূনতম গড় মাসিক বা ত্রৈমাসিক ব্যালান্স বজায় না রাখলে বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলিতে ১০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত পেনাল্টি চার্জ কাটা হয়ে থাকে।
৬. চেক বাউন্স করলে জরিমানা: অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেক বাউন্স করলে ব্যাঙ্ক গ্রাহকের কাছ থেকে ২৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত চার্জ আদায় করে।
৭. এসএমএস অ্যালার্টের খরচ: অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত প্রতিটি ছোট-বড় লেনদেনের এসএমএস অ্যালার্ট পাঠানোর জন্য অনেক ব্যাঙ্ক ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা করে কেটে নেয়।
৮. অতিরিক্ত চেকবুকের পাতা: ব্যাঙ্ক নির্ধারিত বিনামূল্যের কোটা শেষ হয়ে যাওয়ার পর অতিরিক্ত চেকবুকের পাতা নিলে প্রতি পাতায় ২ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত খরচ পড়তে পারে।
৯. এনইএফটি, আরটিজিএস ও আইএমপিএস ফি: এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর এই মাধ্যমগুলিতে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ২ টাকা থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে।
১০. অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার চার্জ: শুধুমাত্র অ্যাকাউন্ট খোলা নয়, কিছু নির্দিষ্ট নিয়মের অধীনে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে গেলেও ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ক্লোজিং চার্জ দিতে হতে পারে।
তাই আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে অপ্রয়োজনীয় আর্থিক ক্ষতি এড়াতে ব্যাঙ্কের এই নিয়মগুলি আগে থেকেই জেনে নেওয়া এবং সচেতন থাকা ভীষণ জরুরি।