অতিরিক্ত ভাড়ার বায়না আর নয়! রাইডারদের কারসাজি রুখতে এবার র্যাপিডোকে কড়া শাস্তি দিল প্রশাসন

রাইড বুক করার পর অ্যাপে নির্ধারিত টাকার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা দাবি করার অভিযোগ বহুদিনের। অনেক সময়ই তা নিয়ে চালক ও যাত্রীদের মধ্যে বচসাও বাধত। তবে এবার যাত্রীদের পকেট কাটার সেই অনৈতিক ব্যবসার পথ অনেকটাই বন্ধ হতে চলেছে। বিভ্রান্তিকর বার্তা ছড়ানো, ডার্ক প্যাটার্ন ব্যবহার এবং গ্রাহকদের বেশি টাকা দিতে বাধ্য করার অপরাধে জনপ্রিয় রাইড-শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম র্যাপিডো (Rapido)-র ওপর ১০ লাখ টাকার ভারী জরিমানা আরোপ করেছে সেন্ট্রাল কনজিউমার প্রোটেকশন অথরিটি (CCPA)। এর পাশাপাশি, সমস্ত অনৈতিক কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ করার কড়া নির্দেশও দেওয়া হয়েছে সংস্থাকে।
ঠিক কী অভিযোগ রয়েছে র্যাপীডোর বিরুদ্ধে?
সিসিপিএ (CCPA)-র তদন্তে উঠে এসেছে যে, অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করার নানা কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছিল:
-
বিভ্রান্তিকর বার্তা: রাইড বুক করার সময় র্যাপিডোর অ্যাপে প্রায়ই দেখানো হতো, “Higher the price, higher the chance of getting a ride” অর্থাৎ যত বেশি দাম দেবেন, রাইড পাওয়ার সম্ভাবনা তত বাড়বে। মূল ভাড়ার অতিরিক্ত টাকা দিতে গ্রাহকদের এভাবেই প্ররোচিত করা হতো। কিন্তু বেশি টাকা দিলে সত্যিই গাড়ি পাওয়ার সুযোগ বাড়ে কি না, তার পক্ষে কোনও উপযুক্ত প্রমাণ সংস্থা দিতে পারেনি।
-
ডার্ক প্যাটার্ন ও ‘Set your price’ ফিচার: অ্যাপের ‘Set your price’ স্লাইডারের ডিজাইন নিয়ে ঘোর আপত্তি জানিয়েছে প্রশাসন। সেখানে বেশি ভাড়ার অপশনটিকে আকর্ষণীয় ‘সবুজ’ রঙে এবং কম ভাড়ার অপশনগুলোকে ‘লাল বা কমলা’ রঙের ভীতিপ্রদ সতর্কবার্তায় দেখানো হতো। একে ‘ইন্টারফেস ইন্টারফারেন্স’ বা ডার্ক প্যাটার্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
-
রাইডের আগেই টিপ্স: গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই রাইড শুরুর পর্বে আগাম টিপ্স (Advance-Tip) চাওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ গ্রাহক স্বার্থবিরোধী বলে উল্লেখ করেছে সিসিপিএ। ‘মোটর ভেহিকেল অ্যাগ্রিগেটর গাইডলাইন্স, ২০২৫’ অনুযায়ী, টিপ্স দেওয়ার ফিচার কেবল রাইড সফলভাবে শেষ হওয়ার পরেই থাকা উচিত।
উবার ও ওলার ওপরও কি কড়া নজর?
একা র্যাপিডো নয়, এর আগেও উবার (Uber), ওলা (Ola) এবং নাম্মা যাত্রী (Namma Yatri)-র মতো জনপ্রিয় অ্যাপগুলির অ্যাডভান্স-টিপ ও ডার্ক প্যাটার্ন সংক্রান্ত নানা অভিযোগ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছিল CCPA। র্যাপিডোর বিরুদ্ধে এই কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপের পর এবার শিল্প মহলের নজর রয়েছে উবার ও ওলা-র দিকেও, যেগুলির বিরুদ্ধে চলা তদন্ত বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।