মদিনার মাটির নীচে লুকিয়ে বিশাল গুপ্তধন! তেলের পর এবার ইউরেনিয়ামের সন্ধান পেতেই বিশ্বজুড়ে শুরু হাহাকার

তেলের ওপর নির্ভর করেই এতদিন মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি এবং বিশ্ব রাজনীতির চালচিত্র নির্ধারিত হয়ে এসেছে। কিন্তু প্রচলিত সেই সমীকরণকে এক লহ্মায় বদলে দিয়ে এবার মাটির নীচে পাহাড়প্রমাণ ইউরেনিয়াম ও বিরল খনিজের সন্ধান পেল সৌদি আরব। শুধু তাই নয়, ইসলাম ধর্মের অন্যতম পবিত্র ও সংবেদনশীল স্থান মদিনার বুকেই এই খনিজ ভাণ্ডার পাওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে, যা গোটা আন্তর্জাতিক মহলে মুহূর্তের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।

কোথায় মিলল এই ইউরেনিয়াম ভাণ্ডার?

সোমবার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সির ৭০তম সাধারণ সম্মেলনে এক বড় ঘোষণা করেন সৌদি আরবের যুবরাজ আব্দুল্লাহ বিন সালমান। তিনি জানান, মদিনার ‘জবাল সইদ’ প্রকল্পে সুদীর্ঘ অনুসন্ধান ও ভূতাত্ত্বিক গবেষণা চালিয়ে মাটির নীচে প্রায় ১১ কোটি টন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ আকরিক এবং উচ্চমাত্রায় বিরল খনিজের উপস্থিতি হাতেনাতে ধরা পড়েছে।

যুবরাজের এই ঘোষণার পরেই আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়ে গেছে নতুন হিসাব-নিকাশ। কারণ, যে সময় এই আবিষ্কারের কথা সামনে এল, সেই সময়েই মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি অত্যন্ত উত্তপ্ত। একদিকে ইসলামি দেশগুলির অভ্যন্তরীণ কোন্দল, অন্যদিকে সৌদি আরবে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের নিয়মিত নিশানা করা এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের শক্তির বাড়বাড়ন্ত—সব মিলিয়ে এই ইউরেনিয়াম আবিষ্কার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

অর্থনীতি থেকে পারমাণবিক স্বপ্ন

ঐতিহাসিকভাবেই সৌদি আরবের মূল অর্থনৈতিক শক্তি হলো তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস। কিন্তু জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ধীরে ধীরে ভবিষ্যতের পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকেই বড় পদক্ষেপ করছে রিয়াদ। এমন এক সময়ে বিপুল পরিমাণ ইউরেনিয়ামের খোঁজ মেলা দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য এক বিরাট টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে। উল্লেখ্য, ওই জবাল সইদ এলাকাতেই এর আগে থেকেই তামা উত্তোলনের কাজ চালিয়ে আসছিল দেশটি।

তবে আবিষ্কৃত এই ইউরেনিয়ামের গুণমান ঠিক কেমন বা তা বাণিজ্যিক উৎপাদনের পক্ষে উপযুক্ত কি না, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি সৌদি প্রশাসন। খনিজের ঘনত্ব ও গঠন পর্যালোচনা না করে এই বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। তা সত্ত্বেও, গত জুলাই মাসেই আমেরিকার সঙ্গে সৌদির একটি বেসামরিক পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। যার জেরে সৌদির মাটিতে ইউরেনিয়াম নির্ভর পরিকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মার্কিন সংস্থাগুলি যে অন্যদের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে থাকবে, তা বলাই বাহুল্য। তেলের সাম্রাজ্যে ইউরেনিয়ামের এই নতুন সংযোজন ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে কোন মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *