নীল-সাদা প্যান্ডেলে গণেশ পুজো! চরম বিতর্কের জেরে শেষমেশ যা হল, তা জানলে চমকে যাবেন

পুজো মানেই আনন্দ আর উৎসবের মেজাজ, কিন্তু সেই পুজো মণ্ডপের রঙ বা প্যান্ডেলের সাজসজ্জা নিয়ে যদি রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়, তবে তা মুহূর্তেই শিরোনামে চলে আসে। ঠিক এমনই এক ঘটনা ঘটেছে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর সদর এলাকায়। সেখানে ‘ইয়ং বয়েজ ক্লাব’-এর উদ্যোগে আয়োজিত গণেশ পুজোর প্যান্ডেলের রঙ ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। শেষ পর্যন্ত সেই প্যান্ডেলের কাপড় খুলিয়ে অন্য রঙের কাপড় লাগাতে বাধ্য হলেন পুজো উদ্যোক্তারা।
ঠিক কী হয়েছিল মালদহে?
স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রতিবারের মতো এবারও হরিশ্চন্দ্রপুরের যুবকদের একাংশ ধুমধাম করে গণেশ পুজোর আয়োজন করেছে। চলতি বছর তাদের তৈরি মণ্ডপের ভেতরে হলুদ-সাদা এবং বাইরে নীল-সাদা কাপড়ের কাজ করা হয়েছিল। এই প্যান্ডেল পরিদর্শনে যান স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক মতিবুর রহমান এবং জেলা পরিষদ সদস্য বুলবুল খান। আর এই দৃশ্য সামনে আসতেই স্থানীয় বিজেপি নেতা অর্জুন কেশরী সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তীব্র আপত্তি জানান। তাঁর অভিযোগ ছিল, প্যান্ডেলে এই নীল-সাদা রঙ ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে হিন্দু ভাবাবেগে আঘাত হানা হচ্ছে।
পুরো বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার উপক্রম হলে, কালীঘাটপন্থী তৃণমূল বিধায়ক মতিবুর রহমান স্পষ্ট জানান যে হরিশ্চন্দ্রপুর একটি শান্তিপূর্ণ এলাকা এবং কেউ যাতে সেখানে অশান্তি পাকাতে না পারে, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। এমনকি গোটা বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানানোর কথাও বলেন তিনি।
দূরত্ব বজায় রাখল জেলা বিজেপি নেতৃত্বও
তবে এই পুরো ঘটনায় তৃণমূল নেতার পাশে দাঁড়ায়নি খোদ জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। উল্টে বিজেপির জেলা সম্পাদক রূপেশ আগরওয়াল সাফ জানিয়ে দেন যে, পুজোর রাজনীতিকরণের তীব্র বিরোধী তাঁরা। তাঁর মতে, প্যান্ডেলের কাপড় যে কোনও রঙের হতে পারে এবং সেটা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পছন্দ। দলের রাজ্য সভাপতিও স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন যে পুজোর প্যান্ডেল নিয়ে কোনওরকম রাজনীতি করা উচিত নয়। যদি কেউ কোথাও এমনটা করে থাকে, তবে তা ভুল এবং ব্যক্তিগত ব্যাপার। সবমিলিয়ে, প্যান্ডেলের রঙ বদলের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।