পুরুষ ও নারীর শরীরে কি ডায়াবেটিসের প্রভাব আলাদা? অজান্তেই কোন মারাত্মক ভুলটি করছেন আপনি?

ডায়াবেটিস আজ বিশ্বজুড়ে এক মহামারী রূপ ধারণ করেছে। কিন্তু একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরেই চিকিৎসাবিজ্ঞান ও সাধারণ মানুষের মনে ঘোরাফেরা করছে— পুরুষ ও নারীর শরীরে কি ডায়াবেটিস একই রকমভাবে প্রভাব ফেলে? সাম্প্রতিক বেশ কিছু চিকিৎসা গবেষণা এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী, উত্তরটি হলো— একেবারেই না। জেন্ডার বা লিঙ্গভেদের ওপর ভিত্তি করে পুরুষ এবং নারীর শরীরে ডায়াবেটিসের লক্ষণ, প্রভাব এবং শারীরিক জটিলতার ধরণে রয়েছে আকাশ-পাতাল তফাত।
নারীদের ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি:
চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিস পুরুষদের তুলনায় নারীদের শরীরে অনেক বেশি জটিল ও মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। সাধারণত নারীদের ক্ষেত্রে হৃদরোগের ঝুঁকি স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা কম থাকে, কিন্তু শরীরে ডায়াবেটিস বাসা বাঁধলে সেই সুরক্ষা প্রাচীর ভেঙে যায়। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত নারীদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি মাত্রায় বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়াও পলিসিস্টিক ওভারি সিন্ড্রোম (PCOS), গর্ভাবস্থায় জটিলতা এবং হরমোনের ভারসামহীনতার মতো সমস্যাগুলি ডায়াবেটিসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। অনেক ক্ষেত্রে নারীরা ডায়াবেটিসের প্রাথমিক লক্ষণগুলি বুঝতে পারেন না, যার ফলে রোগ অনেক দেরিতে ধরা পড়ে।
পুরুষদের শরীরে ডায়াবেটিসের প্রভাব:
অন্যদিকে, পুরুষদের ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস প্রধানত রক্তনালী ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে পুরুষদের মধ্যে রক্তচাপজনিত সমস্যা, কিডনির জটিলতা এবং স্নায়ুর দুর্বলতার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিসের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবে পুরুষদের টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমে যেতে পারে, যা তাদের প্রজনন স্বাস্থ্য এবং শারীরিক শক্তির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। এছাড়া ইরেকটাইল ডিসফাংশন বা যৌন সমস্যার মতো জটিলতাগুলি পুরুষ ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে অত্যন্ত সাধারণ একটি বিষয়।
সচেতনতাই বাঁচার একমাত্র উপায়:
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস শুধুমাত্র রক্তের শর্করা বাড়ার খেলা নয়; এটি শরীরের প্রায় প্রতিটি অঙ্গকে ভেতর থেকে কুঁড়ে কুঁড়ে খায়। তবে লিঙ্গভিত্তিক এই ফারাকগুলো বুঝে যদি সময়মতো খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সঠিক সময়ে রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা যায়, তবে এই প্রাণঘাতী রোগকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নিজের এবং প্রিয়জনদের সুস্থতার স্বার্থে আজই সচেতন হোন।