কোটি টাকার সম্পত্তি ও ভরা সংসার, তবুও সঙ্গীহীন ৮৪-এর বৃদ্ধ! লখনউয়ের এই অদ্ভুত মিলনমেলা দেখে চোখ ভিজবে

কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি এবং সুদৃশ্য দু’মজिला পাকা বাড়ি—সবকিছু থাকা সত্ত্বেও ৮৪ বছর বয়সি এক বৃদ্ধের প্রতিটি রাত কাটে চরম একাকীত্বে। মধ্যপ্রদেশের विदिशा (বিদিশা) থেকে নিজের নাতিকে সঙ্গে নিয়ে লখনউয়ে পৌঁছেছেন এই প্রবীণ। স্ত্রীর প্রয়াণের পর ভরা সংসারেও যে গভীর শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা কাটার আসায় তিনি সম্প্রতি হাজির হয়েছিলেন এক অদ্ভুত ও ব্যতিক্রমী সম্মেলনে।

রবিবার লখনউ শহরে আয়োজিত হয়েছিল একটি বিশেষ ‘সিনিয়র সিটিজেন বা প্রবীণ নাগরিক পরিচয় সম্মেলন’। ৫০ থেকে ৯০ বছর বয়সি প্রায় ৭৫ জন পুরুষ এবং মাত্র ১৫ জন নারী এই আসরে যোগ দিয়েছিলেন। উপস্থিতদের বেশিরভাগই ছিলেন বিধুর, বিধবা, তালাকযুক্ত কিংবা অবিবাহিত। জীবনের এই শেষ পর্যায়ে এসে একে অপরের সঙ্গে দেখা করে তাঁরা নিজেদের সুখ-দুঃখের গল্প ও অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নেন।

অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া দিল্লির এক ৫৫ বছর বয়সি নারী জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে তিনি সম্পূর্ণ একা জীবন কাটাচ্ছেন। তাঁর সন্তানেরাও বড় হয়ে বিভিন্ন দূরে দূরে থিতু হয়েছেন। ফলে সন্ধ্যার অন্ধকার নামতেই বাড়ির চারপাশের নিস্তব্ধতা তাঁকে কুড়ে কুড়ে খায়। তাঁর কথায়, ‘‘এখন জীবনের এই পড়ন্ত বেলায় দু’টো কথা একসঙ্গে বসে বলার মতো কোনো মানুষ খুব দরকার। একজন সঙ্গী থাকলে অন্তত কথা শোনার কেউ তো থাকে।’’

একই সুর শোনা গেল ৬৭ বছর বয়সি এক প্রাক্তন পুলিশকর্মীর গলাতেও। তিনি জানান, বাবা-মায়ের সেবা এবং পরিবারের দায়িত্ব পালন করতেই তাঁর জীবনের বড় অংশ কেটে গেছে, কিন্তু বার্ধক্যের এই লগ্নে এসে একাকীত্ব তাঁকে ভীষণভাবে গ্রাস করছে। অন্যদিকে প্রয়াগরাজ থেকে আসা এক মহিলা জানান, বুড়ো বয়সেও মনের মতো একজন সঙ্গীর প্রয়োজন তীব্রভাবে অনুভূত হয়, তবে সমাজের নানা রক্ষণশীল বাঁধাধরা নিয়ম ও সামাজিক ট্যাবু অনেক ক্ষেত্রেই মহিলাদের এই ধরনের অনুষ্ঠান থেকে দূরে থাকতে বাধ্য করে।

সম্মেলনের আয়োজকরা জানিয়েছেন, পুরুষদের তুলনায় এই ধরনের অনুষ্ঠানে নারীদের উপস্থিতি সবসময়ই বেশ কম থাকে। সমাজের প্রচলিত রুঢ়িগত ধারণা এবং পারিবারিক ও সামাজিক চাপ অনেক বয়স্ক মহিলাকে প্রকাশ্যে সঙ্গী খোঁজার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আয়োজক কমিটির এক সম্পাদক জানান, একা থাকা এই প্রবীণদের জন্য মনের মতো একজন সঙ্গী খুঁজে পাওয়া কেবল কোনো শৌখিন বা আবেগপ্রবণ চাহিদা নয়, বরং তাঁদের শারীরিক সুস্থতা এবং মানসিক নিরাপত্তার খাতিরেও এটি অত্যন্ত জরুরি।

আলোচনার সময় বহু প্রবীণই পরিষ্কার ভাষায় জানিয়েছেন যে, অজস্র সম্পত্তি বা ভরা পরিবার থাকলেও অন্দরের নিঃসঙ্গতা তাঁদের ভিতর থেকে শেষ করে দিচ্ছে। তাঁরা মূলত এমন একজন জীবনসঙ্গী খুঁজছেন, যাঁর সঙ্গে মন খুলে কথা বলা যায়, একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করা যায় এবং জীবনের শেষ কটি দিন অন্তত একটু শান্তিতে কাটানো যায়। এই সম্মেলনের মঞ্চেই বহু প্রবীণ নিজেদের নাম ও যোগাযোগের তথ্যও একে অপরের সঙ্গে আদান-প্রদান করেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *