মহাকাশে মহাযুদ্ধের আশঙ্কা! প্রথমবার প্রকাশ্যেই মহাশূন্যে মারণাস্ত্র মোতায়েনের কথা স্বীকার করল আমেরিকা!

মহাকাশে নিজেদের আধিপত্য কায়েম করতে বিশ্বের পরাশক্তিগুলির মধ্যে দীর্ঘদিনের শীতল লড়াই এবার আরও চরম আকার ধারণ করার ইঙ্গিত মিলল। মার্কিন প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করে নিয়েছে যে, তারা ইতিমধ্যেই মহাশূন্যে অস্ত্রশস্ত্র বা হাতিয়ার মোতায়েন করেছে। মার্কিন বায়ুসেনার সচিব ট্রয় মীক জানিয়েছেন, আমেরিকার যৌথ সেনার সুরক্ষার স্বার্থেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। মানবসভ্যতার ইতিহাসে এই প্রথমবার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দেশ মহাশূন্যে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করল, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক বিশাল শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
উদ্বেগ বাড়াচ্ছে চিন ও রাশিয়া:
মেরিল্যান্ডের ন্যাশনাল হারবারে ‘এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার কনফারেন্স’-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রয় মীক স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, ক্রমবর্ধমান এবং উদীয়মান চ্যালেঞ্জগুলির মোকাবিলা করতেই আমেরিকা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কিন সেনাকে সুরক্ষিত রাখতে মহাকাশে এমন অস্ত্র রয়েছে, যা শত্রুর যেকোনো আক্রমণ প্রতিহত করতে সক্ষম। যদিও ঠিক কী ধরনের বা কতগুলি অস্ত্র মহাশূন্যে পাঠানো হয়েছে এবং সেগুলি কবে মোতায়েন করা হয়েছিল, সে বিষয়ে মুখ খুলতে সম্পূর্ণ নারাজ পেন্টাগন।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন এই পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে চিন ও রাশিয়ার লাগাতার আগ্রাসী মনোভাব। আমেরিকার অভিযোগ, ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে তৈরি ‘ইউএস স্পেস ফোর্স’-এর ওপর বরাবরই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে আসছে বেজিং ও মস্কো। বিশেষ করে রাশিয়ার স্যাটেলাইট প্রশিক্ষণ মিশন এবং চিনের পরমাণু ক্ষমতা সম্পন্ন হাইপারসোনিক মিসাইল প্রযুক্তির বিস্তার ওয়াশিংটনের কপালে ভাঁজ ফেলেছে। এর আগে সিএনএন-এর এক চাঞ্চল্যকর রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল যে, মহাকাশে ‘ইলেকট্র্রোম্যাগনেটিক পালস’ (EMP) ভিত্তিক পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে মস্কো, যা একসঙ্গে হাজার হাজার বাণিজ্যিক ও সরকারি স্যাটেলাইটকে মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস করে দিতে পারে। যদিও রাশিয়া সেই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে।
আইনের ফাঁকফোকর ও মহাকাশের নিরাপত্তা:
১৯৬৭ সালের ‘আউটার স্পেস ট्रीটি’ (Outer Space Treaty 1967) অনুযায়ী পৃথিবীর কক্ষপথে পরমাণু অস্ত্র বা গণধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ করা হলেও, ঐতিহ্যগত অস্ত্র বা গ্রাউন্ড-বেসড মিসাইল ব্যবহারের ওপর কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা নেই। আর এই আইনি ফাঁকফোকরকে কাজে লাগিয়েই মহাশূন্যে সামরিক আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে নেমে পড়েছে পরাশক্তিগুলি। মহাকাশের স্যাটেলাইট এবং নেভিগেশন সিস্টেমের ওপর গোটা বিশ্বের ব্যাংকিং, আবহাওয়া পূর্বাভাস থেকে শুরু করে জরুরি পরিষেবাগুলি নির্ভরশীল হওয়ায়, এই মারণাস্ত্রের প্রতিযোগিতা মানবজাতিকে এক চরম ও ধ্বংসাত্মক ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।