বাঙালি না হয়েও রবীন্দ্রসংগীত! শেহনাজ গিলের কণ্ঠে ‘আমারও পরান যাহা চায়’ শুনে মুগ্ধ নেটদুনিয়া

শেহনাজ গিলকে সাধারণত তাঁর পাঞ্জাবি গান, সিনেমা কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ার ঝলমলে উপস্থিতির জন্যই সকলে চিনে থাকেন। তবে এবার তিনি এমন এক কাণ্ড ঘটিয়েছেন, যা তাঁর বাঙালি অনুরাগীদের কাছে নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বিশেষ এক প্রাপ্তি। বাংলা ভাষার সঙ্গে বিশেষ যোগাযোগ না থাকা সত্ত্বেও স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান গেয়ে সকলকে রীতিমতো চমকে দিয়েছেন এই জনপ্রিয় অভিনেত্রী। তাঁর সাবলীল কণ্ঠে বাঙালির অত্যন্ত আবেগ ও প্রিয়তার রবীন্দ্রসংগীত ‘আমারও পরান যাহা চায়’ শোনার পর থেকেই নেটদুনিয়ায় শুরু হয়েছে চর্চা।

প্রচারের মঞ্চে আচমকা রবীন্দ্রসংগীত
সম্প্রতি একটি নতুন পাঞ্জাবি ছবির প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন শেহনাজ গিল। আর সেই ইভেন্টের মাঝেই আচমকা গান ধরে বসেন এই অভিনেত্রী-গায়িকা। যেহেতু বাংলা ভাষার সঙ্গে তাঁর নিয়মিত কোনো ওঠাবসা নেই, তাই রবীন্দ্রসংগীতের মতো অত্যন্ত সুক্ষ্ম উচ্চারণ ও আবেগনির্ভর গান গাওয়া তাঁর মতো ভিনরাজ্যের শিল্পীর কাছে মোটেই সহজ কাজ ছিল না। তা সত্ত্বেও নিজের মতো করে সম্পূর্ণ আন্তরিকতার সঙ্গে গানটি পরিবেশন করার চেষ্টা করেছেন তিনি। তাঁর এই নিখাদ প্রয়াসই ক্যামেরাবন্দি হয়ে মুহূর্তে নজর কেড়ে নিয়েছে দর্শকদের।

উচ্চারণে মনোযোগ ও শ্রোতাদের মুগ্ধতা
গানটির ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সুর মেলানোর তাগিদই নয়, বরং বাংলার প্রতিটি শব্দের নিখুঁত উচ্চারণের দিকেও যথেষ্ট মনোযোগ দিতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। বাংলা ভাষা সম্পর্কে সীমিত পরিচয় থাকা সত্ত্বেও মূল গানের অন্তর্নিহিত অনুভূতি ও আবহকে ধরে রাখার যে চেষ্টা তিনি করেছেন, তাতেই মুগ্ধ হয়েছেন বহু বাঙালি অনুরাগী। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তা নিয়ে চলছে নানা ইতিবাচক আলোচনা। রবীন্দ্রসংগীতের প্রতি নিজের ভালো লাগার কথাও অকপটে প্রকাশ করেছেন শেহনাজ। ভিডিওটির ক্যাপশনেও সেই অনুরাগের স্পষ্ট ছাপ রয়েছে, যা একটি সাধারণ ছবির প্রচারের মঞ্চকে মুহূর্তের মধ্যে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

সংস্কৃতির সীমানা ছাড়িয়ে ভালোবাসার জয়
‘বিগ বস’-এর হাত ধরে সারা দেশজুড়ে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর অভিনয়ের পাশাপাশি গান গেয়েও বারবার নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন শেহনাজ। তবে এবার তাঁর রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনের এই ঘটনাটিই অনুরাগীদের কাছে সবচেয়ে বড় চমক হয়ে উঠেছে। পাঞ্জাবের এই জনপ্রিয় অভিনেত্রীর গলায় গুরুদেবের গান শোনার পর অনেকেই বলছেন, ভাষা কিংবা সংস্কৃতির ভিন্নতা যতই থাকুক না কেন, প্রকৃত ভালোবাসা থাকলে কোনো শিল্পকেই আপন করে নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধাই থাকে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *