একাধিক হত্যাকাণ্ডে উত্তাল পূর্বাঞ্চল! রাজনৈতিক তরজায় কোণঠাসা শাসক শিবির কি বড় বিপদের মুখে?

উত্তরপ্রদেশে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে একের পর এক হত্যাকাণ্ড রাজ্য রাজনীতিকে পুরোপুরি অগ্নিগর্ভ করে তুলেছে। गोंडा বা গোণ্ডার পাত্র ব্যবসায়ী বিনোদ সাহানির খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে গোটা পূর্বাঞ্চলে রাজনৈতিক পারদ চড়েছে। এর সঙ্গে আয়োধ্যায় রামলগন মৌর্য এবং প্রতাপগড়ে সৌরভ বিশ্বকর্মা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা যুক্ত হওয়ায় এই বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। প্রতিটি ঘটনাই ভুক্তভোগীদের সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং অভিযুক্তদের জাতভিত্তিক পরিচয়ের কারণে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেসের হাতিয়ার ‘সামাজিক ন্যায়’

সমাজবাদী পার্টি (সপা) এবং কংগ্রেসের মতো বিরোধী দলগুলি এই ঘটনাগুলিকে অনায়াসেই অনগ্রসর শ্রেণীর ওপর অত্যাচার ও অবিচারের হাতিয়ার করে তুলেছে। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব স্বয়ং মৃত ব্যবসায়ীর পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন এবং বিরোধী নেতারাও নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিরোধীদের এই প্রয়াস প্রমাণ করে যে এই ঘটনাগুলিকে নিছক অপরাধ হিসেবে না দেখে, ওবিসিদের নিরাপত্তাহীনতা এবং ‘সামাজিক ন্যায়’ সংক্রান্ত বৃহত্তর রাজনৈতিক এজেন্ডার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, শাসক দল বিজেপির দাবি—অপরাধীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে এবং বিরোধীরা এই বেদনাদায়ক পরিস্থিতি নিয়ে স্রেফ রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে।

মন্ত্রী সঞ্জয় নিশাদের মুখ্যমন্ত্রী সাক্ষাতের প্রস্তুতি

গণ্ডার ঘটনায় মৃত ব্যবসায়ী বিনোদ সাহানি মल्लाह বা নিশাহ সমাজের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এই ঘটনার পর থেকেই নিশাহ সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিশাহ পার্টির জাতীয় সভাপতি এবং যোগী সরকারের মন্ত্রী সঞ্জয় নিশাদ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে দেখা করার পরিকল্পনা করেছেন। তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি তাদের সম্পত্তিতে বুলডোজার চালানোর জোরালো দাবি জানাতে পারেন বলে জানা গেছে। এই রাজনৈতিক সমীকরণে সঞ্জয় নিশাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একদিকে তিনি যেমন মন্ত্রী, তেমনই অন্যদিকে নিশাহ সমাজের প্রভাবশালী নেতাও বটে।

বিজেপির সামাজিক সমীকরণে বড় চ্যালেঞ্জ?

উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে অ-যাদব ওবিসি (OBC) ভোটব্যাংক বিজেপির সাফল্যের অন্যতম বড় স্তম্ভ। মৌর্য, শাক্য, সাইনি, কুরমি, নিশাদ এবং বিশ্বকর্মা সম্প্রদায়ের মতো গোষ্ঠীগুলি দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির রাজনৈতিক ভিত্তিকে মজবুত করে এসেছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে ধাক্কা খাওয়ার পর, ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ধরণের সামাজিক অসন্তোষ বা জাতভিত্তিক মেরুকরণ শাসক দলের জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শুধু বিজেপি নয়, এর জোটসঙ্গী দলগুলোর ওপরেও প্রবল চাপ তৈরি হয়েছে। নিশাদ পার্টি, আপনা দল (এস) কিংবা সুভাসপা—সকলকেই নিজ নিজ জনগোষ্ঠীর কাছে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান প্রমাণ করতে হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, আইন-শৃঙ্খলার প্রতিটি ক্ষেত্রে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে অপরাধীর কোনো জাতি বা রাজনৈতিক পরিচয় থাকে না—এই বার্তা দিয়ে শাসক দল কীভাবে এই রাজনৈতিক মেঘ কাটাতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *