পুজোর আগেই বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন ১৭ জন এনসিপিআই সাংসদ? জগদীশ বসুনিয়ার বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে ফের এক বিশাল ও চাঞ্চল্যকর রদবদলের ইঙ্গিত মিলল। বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই বঙ্গ রাজনীতিতে যে দলবদলের হাওয়া বইছিল, তা এবার একপ্রকার ঝড়ে পরিণত হতে চলেছে। সোমবার কোচবিহারের সাংসদ জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়া দাবি করেছেন যে, তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া সাংসদদের মধ্যে ১৭ জন খুব শীঘ্রই সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন।
তাঁদের এই দাবি যদি শেষ পর্যন্ত সত্যি হয়, তবে রাজ্য রাজনীতি যে এক নতুন ও নাটকীয় মোড় নিতে চলেছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। দুর্গাপুজোর ঠিক আগে কিংবা পরেই এই মেগা দলবদল ঘটতে পারে বলে জল্পনা শুরু হয়েছে। ঘটনাচক্রে, এই সাংসদরা প্রত্যেকেই পূর্বে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিআই দলে যোগ দেন।
দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়ানোর নিখুঁত অঙ্ক
এই দলবদলের নেপথ্যে যে সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও আইনি কৌশল কাজ করছে, তা খোদ কোচবিহারের সাংসদের কথাতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, মূলত দলত্যাগ বিরোধী আইন বা অ্যান্টি-ডিফেকশন ল-এর আইনি ফাঁদ থেকে বাঁচতেই এই সুচিন্তিত ছক কষা হয়েছিল। প্রথমে তাঁদের অন্য একটি রাজনৈতিক মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হয় এবং এবার তাঁরা সরাসরি বিজেপিতে নাম লেখাতে চলেছেন।
নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী সুর চড়িয়ে জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়া স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “ওরাই আমাদের এনসিপিআই-তে নিয়ে গিয়েছে, পুজোর আগে-পরে বিজেপিতেই যাচ্ছি।” তাঁর দাবি, আইনি নিয়ম অনুযায়ী ২০ জন সদস্যের মধ্যে ১৪ জন দল ছাড়লে তবেই তা দুই-তৃতীয়াংশ হয়, আর তাঁরা যেহেতু ১৭ জন একসঙ্গে দলত্যাগ করছেন, তাই কোনো অবস্থাতেই তাঁদের সদস্যপদ বাতিল হবে না কিংবা তাঁরা দলবিরোধী আইনের আওতায় পড়বেন না।
সংখ্যালঘু সাংসদদের ক্ষেত্রে কী রণকৌশল?
বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদের মধ্যে ১৭ জন বিজেপিতে যোগ দিলেও বাকি তিনজন—আবু তাহের, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠান এখনই সরাসরি পদ্মশিবিরে নাম লেখাচ্ছেন না। এর পেছনে গেরুয়া শিবিরের নির্দিষ্ট কৌশলগত অঙ্ক রয়েছে। ওই তিন সাংসদের সংসদীয় এলাকার জনবিন্যাস এবং সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের কথা মাথায় রেখেই আপাতত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
খাতায়কলমে তাঁরা সরাসরি বিজেপিতে যোগ না দিলেও শাসক জোট এনডিএ-র অংশ হিসেবেই কাজ করবেন এবং তাঁদের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। জগদীশ বসুনিয়া এই প্রসঙ্গে জানান, সংখ্যালঘু প্রধান এলাকা হওয়ার কারণে তাঁদের সরাসরি দলবদল করার ক্ষেত্রে কিছু রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
কোচবিহারের সাংসদের এই বিস্ফোরক দাবির পর রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। যদিও রাজ্য বিজেপির তরফে এই দাবির সত্যতা এখনই স্বীকার করা হয়নি। রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার গোটা বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জানিয়েছেন যে, দলে এমন কোনো ঘটনা ঘটছে না এবং এর সঙ্গে বিজেপির কোনো সম্পর্ক নেই।
ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই সাংসদদের সদস্যপদ খারিজের জন্য স্পিকার ওম বিড়লার কাছে জোরালো আবেদন জানিয়েছেন এবং সুপ্রিম কোর্টেরও দ্বারস্থ হয়েছেন। এই দীর্ঘ আইনি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই জগদীশ বসুনিয়ার এই মেগা দলবদলের দাবি নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। পুজো কাটলেই এই ১৭ জন সাংসদ সত্যিই পদ্ম শিবিরে নাম লেখান কি না, এখন সেটাই দেখার!